খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ৬:১০ পিএম
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় পুলিশের পোশাক পরে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে রাকিব শেখ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তার কাছ থেকে খেলনা পিস্তল, একটি হ্যান্ডকাফ, পুলিশের কোট এবং একটি ছুরি উদ্ধার করে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
শনিবার বিকেলে উপজেলার ননীক্ষীর ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক রাকিব শেখ উপজেলার ননীক্ষীর ইউনিয়নের বড় ভাট্টা গ্রামের মৃত হাই শেখের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশের বিশেষ পোশাক পরে রাকিব বনগ্রামের একটি বাড়িতে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে বাড়ির লোকজনকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন। তার আচরণ ও কথাবার্তায় উপস্থিত লোকজনের সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি যাচাই করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তার পরিচয় নিয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়লে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন।
আটকের পর তার কাছে তল্লাশি চালিয়ে একটি খেলনা পিস্তল, একটি হ্যান্ডকাফ, পুলিশের একটি কোট এবং একটি ছুরি পাওয়া যায়। এসব সরঞ্জাম দেখে স্থানীয়রা নিশ্চিত হন যে তিনি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করেছেন। পরে সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্দেহজনক আচরণের কারণেই স্থানীয়রা দ্রুত তাকে আটক করেন। পরে পুলিশ এসে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী জব্দ করে এবং অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আওরঙ্গজেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বনগ্রামের গগন বালার বাড়ি থেকে রাকিব শেখ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি খেলনা পিস্তল, একটি হ্যান্ডকাফ, পুলিশের একটি কোট এবং একটি ছুরি জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি কী উদ্দেশ্যে পুলিশের পোশাক ব্যবহার করছিলেন এবং তিনি এর আগে একই ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া সামগ্রী এবং ঘটনার অন্যান্য দিকও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তি সরকারি বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের ঘটনায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আওরঙ্গজেব আরও জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য