খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া, বৃষ্টিপাত এবং উত্তাল সমুদ্রের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা—এই চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের সব অভ্যন্তরীণ নৌবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও সক্রিয় থাকায় এর প্রভাব আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হবে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি বিক্ষিপ্তভাবে এবং অনেক স্থানে থেমে থেমে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই লঘুচাপের প্রভাবে সপ্তাহজুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে অন্য এলাকার তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টি হলে স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা কিংবা পাহাড়ধসের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও এ বিষয়ে পৃথক কোনো সতর্কবার্তা জারি করা হয়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আরেক আবহাওয়াবিদ আবদুল হামিদ বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে সারা সপ্তাহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা বেশি থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেতের অর্থ হলো, বন্দরের আশপাশ দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে। এ অবস্থায় মাছ ধরার নৌকা, ট্রলার এবং ছোট নৌযানগুলোকে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই কারণে দেশের সব অভ্যন্তরীণ নৌবন্দরেও ১ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছে, যাতে নৌপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যায়।
এদিকে দেশের কয়েকটি জেলায় এখনো মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজশাহী, পাবনা, নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, ফেনী এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে লঘুচাপের প্রভাবে আকাশে মেঘের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বৃষ্টিপাত শুরু হলে এই তাপপ্রবাহের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী এক দিনের মধ্যেই তাপপ্রবাহের প্রভাব কিছুটা কমতে শুরু করবে। একই সঙ্গে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আগামী সোমবারের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে চলমান গরমের তীব্রতা কিছুটা কমে স্বস্তি ফিরতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগরে এ ধরনের লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে এর প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠতে পারে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বল্প সময়ের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তাই উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা, জেলে, নৌযান চালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।