খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিন-সংলগ্ন এলাকা থেকে এক ফুটফুটে কন্যাসন্তানকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত দেড়টার দিকে এক নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনে হাসপাতালের নার্স ও সেখানে ভর্তি থাকা রোগীদের স্বজনেরা ছুটে যান এবং তাকে উদ্ধার করেন। তীব্র শীত বা বাইরের প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে ফেলে যাওয়া এই শিশুটিকে উদ্ধারের পর দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি হাসপাতাল এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কে বা কারা এবং ঠিক কী কারণে এক সদ্যোজাত শিশুকে এভাবে ময়লার ডাস্টবিনের পাশে ফেলে রেখে চলে গেল, তা আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। এই অমানবিক ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও বিষাদের জন্ম দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মধ্যরাতে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় যখন গভীর নীরবতা, ঠিক তখন হঠাৎ করেই একটি শিশুর কান্নার তীব্র আওয়াজ ভেসে আসে। শব্দটির উৎস সন্ধানে হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স ও কয়েকজন রোগীর স্বজন দ্রুত নিচে নেমে আসেন। তারা হাসপাতালের চত্বরে থাকা ডাস্টবিনের পাশে গিয়ে দেখেন, কাপড়ে জড়ানো অবস্থায় এক নবজাতক কন্যা পড়ে আছে এবং অনবরত কাঁদছে। তৎক্ষণাৎ তারা শিশুটিকে কোলে তুলে নেন এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা শিশুটিকে উষ্ণ রাখার ব্যবস্থা করেন এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সেবা দেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত একজন নার্স জানান, নবজাতকটির শারীরিক অবস্থা ও নাড়ি কাটার ধরন দেখে মনে হয়েছে, তার জন্ম সম্ভবত সেই রাতেই হয়েছিল। জন্মের পরপরই কোনো এক সময় তাকে হাসপাতাল চত্বরে এনে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। তবে এটি নিশ্চিত যে, শিশুটির জন্ম গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ধারণা, আশপাশের কোনো বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা অন্য কোনো গোপন স্থানে প্রসবের পর নবজাতকটিকে এখানে এনে ফেলে যাওয়া হয়েছে।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাদ করিম আজ সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, নবজাতককে উদ্ধারের পর আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দিই। শিশুটির মাথায় সামান্য আঘাতের চিহ্ন লক্ষ্য করা গেছে। বিষয়টি তাত্ক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সহযোগিতায় রাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে নবজাতকটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এই নবজাতকটি ঠিক কোথা থেকে এসেছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ মাঠে নেমেছে। গজারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাব্বির হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। চিকিৎসা শেষে নবজাতকের নিরাপদ ভবিষ্যৎ এবং যথাযথ পরিচর্যার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি দপ্তরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে কাজ করছে পুলিশ প্রশাসন।