নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ দুই বছর পর প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে এলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার ভারতের নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (FCC) সাউথ এশিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বক্তব্য রাখেন। আবেগঘন এই ভার্চুয়াল ভাষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন—গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বরেই দেশে ফিরছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের একপর্যায়ে নিজের পরিবারের সদস্য এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করতে গিয়ে শেখ হাসিনা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেও তিনি সবসময় দেশের মানুষের পাশে ছিলেন। মৃত্যুভয়ের চেয়ে দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ অনেক বড় উল্লেখ করে তিনি জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা জাতীয় সমঝোতার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সাবেক আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বক্তব্য রাখেন। সজীব ওয়াজেদ জয় দেশে মৌলবাদের উত্থান এবং জুলাই-আগস্টের ঘটনায় জড়িতদের ইনডেমনিটি দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক সহাবস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির বার্তা দেন।
শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, কোটা আন্দোলন ছিল একটি পরিকল্পিত বাহানা, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল হত্যা ও সহিংসতার মাধ্যমে সরকার পতন ঘটানো। এই ঘটনায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পৃক্ততার দাবি তুলে তিনি নিহত পুলিশ সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের সঠিক তদন্ত দাবি করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও বিনিয়োগের জন্য হুমকি হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন।
শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, “অপ্রয়োজনীয় ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা উচিত নয়।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ রক্তপাত এড়িয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার যে বার্তা দিয়েছে, তাতে বল এখন বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোর্টে।



