ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের উৎসবমুখর পরিবেশ মুহূর্তেই রূপ নিয়েছে রণক্ষেত্রে। বুধবার (২১ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে পৌর শহরের কেন্দ্রস্থলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগেই এমন সহিংসতা সাধারণ ভোটারদের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘাতের বিবরণ
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতীক বরাদ্দের পর গফরগাঁও ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিএনপির প্রার্থী মো. আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর সমর্থকরা সমবেত হন। একই সময়ে হাঁস প্রতীক পাওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী (ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক) এবি সিদ্দিকুর রহমানের সমর্থকরা একটি আনন্দ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ইসলামিয়া স্কুলের সামনে পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং দ্রুতই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের রেশ ধরে সন্ধ্যায় গফরগাঁও রেলস্টেশন সংলগ্ন উপজেলা ছাত্রদল সভাপতির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালীন বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে পুরো পৌর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
গফরগাঁও সংঘর্ষের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| ঘটনার স্থান | ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা ও রেলস্টেশন সংলগ্ন অফিস। |
| ঘটনার সময় | ২১ জানুয়ারি ২০২৬, বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। |
| প্রধান পক্ষদ্বয় | মো. আক্তারুজ্জামান বাচ্চু (বিএনপি) বনাম এবি সিদ্দিকুর রহমান (স্বতন্ত্র)। |
| আহতের সংখ্যা | ৫ জন (গুরুতর আহত: আব্দুল্লাহ ও সোহাগ)। |
| আইনশৃঙ্খলা বাহিনী | পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টহল। |
| বর্তমান পরিস্থিতি | এলাকায় থমথমে অবস্থা, দোকানপাট আংশিক বন্ধ। |
প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
সংঘর্ষের পর দুই প্রার্থীর পক্ষ থেকেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। বিএনপির প্রার্থী মো. আক্তারুজ্জামান বাচ্চু অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে জড়ো হওয়ার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন অতর্কিত গুলি ও ককটেল হামলা চালায়।
অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান দাবি করেছেন, তাঁর সমর্থকরা শান্তিপূর্ণ আনন্দ মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় কোনো উসকানি ছাড়াই ধানের শীষের সমর্থকরা তাঁদের ওপর হামলা করেছে। তিনি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন।
প্রশাসনের ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল আল মামুন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘাতের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এনএম আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যৌথবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
উপসংহার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের দিনেই ময়মনসিংহের এই সংঘাত রাজনৈতিক উত্তাপের এক নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল। যেখানে নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ প্রচারণার কথা বলা হয়েছে, সেখানে শুরুতেই এমন রক্তক্ষয় সাধারণ মানুষের মনে শঙ্কা জাগিয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে এবং প্রার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণে নির্বাচনী পরিবেশে শান্তি ফিরে আসবে।



