খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুন ২০২৬, ২:২১ পিএম
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় এক গৃহবধূকে তাঁর বাবার বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৬ সালের ১৬ জুন, মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার পাগলা থানা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় দুর্বৃত্তরা ওই গৃহবধূর স্বামীকে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে ১৭ জুন, বুধবার পাগলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিবাহের পর থেকেই ভুক্তভোগী গৃহবধূ তাঁর স্বামীর সঙ্গে বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন। বসতবাড়ির একটি নির্দিষ্ট কক্ষে তিনি তাঁর স্বামী ও তিন বছর বয়সি কন্যাসন্তানকে নিয়ে অবস্থান করতেন এবং পাশের অন্য একটি কক্ষে তাঁর মা থাকতেন। ১৬ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ১টার দিকে ৭ থেকে ৮ জনের একটি মুখোশধারী দুর্বৃত্তের দল আচমকা ঘরের দরজার সিটকিনি ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
ঘরে ঢোকার পরপরই দুর্বৃত্তরা ওই গৃহবধূর স্বামীকে জিম্মি করে ফেলে এবং তাঁকে রশি দিয়ে বেঁধে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এরপর তারা ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গৃহবধূকে সন্তান ও স্বামীর সামনে থেকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বাইরে তুলে নিয়ে যায়। বসতবাড়ি থেকে কিছুটা দূরবর্তী একটি নির্জন স্থানে নিয়ে দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে পর্যায়ক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গভীর রাতে স্বজনরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি করে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী জানান, রাত আনুমানিক পৌনে ১টার দিকে ৭-৮ জন মুখোশধারী লোক হঠাৎ দরজার সিটকিনি ভেঙে তাঁদের ঘরে প্রবেশ করে। এরপর তারা তাঁকে বেঁধে মারধর করে এবং তাঁর স্ত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে ভুক্তভোগীর মা বলেন, “যারা আমার মেয়ের সঙ্গে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে, আমি প্রশাসনের কাছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ঘটনার পরদিন বুধবার সকালে ভুক্তভোগীর মা পাগলা থানায় উপস্থিত হয়ে ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেন। পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
পাগলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূকে শারীরিক ও ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত আসামিদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল অভিযান পরিচালনা করছে।
গফরগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া এই অপরাধমূলক ঘটনার সার্বিক বিবরণ নিচে সারণীবদ্ধভাবে উপস্থাপন করা হলো:
| পর্যালোচিত বিষয় | সুনির্দিষ্ট তথ্য ও বিবরণ |
| অপরাধের ধরণ | স্বামীকে মারধর, অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | ১৬ জুন ২০২৬ (মঙ্গলবার), রাত আনুমানিক ১২:৪৫ ঘটিকা |
| ঘটনাস্থল | ভুক্তভোগীর বাবার বাড়ি, পাগলা থানা এলাকা, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ |
| হামলাকারী দুর্বৃত্তের সংখ্যা | ৭ থেকে ৮ জন (মুখোশধারী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি) |
| পারিবারিক সদস্য (উপস্থিত) | ভুক্তভোগী গৃহবধূ, তাঁর স্বামী, ৩ বছর বয়সি সন্তান এবং মা |
| মামলার বাদী | ভুক্তভোগী গৃহবধূর মা |
| অভিযোগ দায়েরের তারিখ | ১৭ জুন ২০২৬ (বুধবার) |
| চিকিৎসা ও পরীক্ষা কেন্দ্র | ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্রেরিত) |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত থানা ও কর্মকর্তা | পাগলা থানা; আমিনুল ইসলাম (অফিসার ইনচার্জ) |
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘর ভেঙে ভেতরে প্রবেশের আলামত পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ডাক্তারি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষ এবং পুলিশের তদন্তের ভিত্তিতে এই ঘটনায় নিয়মিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে থানা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
মন্তব্য