খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলায় পারিবারিক কলহ ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে আমির হোসেন সরদার (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ২০২৬ সালের ১৬ জুন, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার পট্টি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ছোট ভাই জুয়েল সরদার তাঁর আরেক ছোট ভাইয়ের টাকা চুরি করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের একপর্যায়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জুয়েল পলাতক রয়েছেন।
নিহত আমির হোসেনের বোন রাশিদা বেগমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার মূল সূত্রপাত হয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে টাকা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অভিযুক্ত জুয়েল সরদার তাঁর ছোট ভাই সোহেল সরদারকে না জানিয়ে তাঁর কাছ থেকে ২,১০০ টাকা নিয়ে নেন। এই চুরির বিষয়টি প্রকাশ পেলে মঙ্গলবার রাতে সোহেল ও জুয়েলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
দুই ছোট ভাইয়ের মধ্যে মারামারি ও পারিবারিক কলহ থামাতে সে সময় এগিয়ে আসেন তাঁদের বড় ভাই আমির হোসেন সরদার। তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করলে জুয়েল সরদার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ঝগড়ার একপর্যায়ে জুয়েল একটি কাঠের রোয়া (কাঠের লাঠি বা খণ্ড) দিয়ে বড় ভাই আমিরের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। আঘাতের তীব্রতায় আমির হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং গুরুতর আহত হন।
মাথাসহ শরীরের সংবেদনশীল অংশে গুরুতর জখম হওয়ায় আমির হোসেনের অবস্থা দ্রুত আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। উপস্থিত স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে তাঁকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহনে করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই আমির হোসেন সরদার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে গোসাইরহাট থানা পুলিশ এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) মো. শামসুল আরেফীন গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা এজাহার দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে একটি নিয়মিত হত্যা মামলা রুজু করা হবে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত জুয়েল সরদার পলাতক রয়েছেন এবং তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান ও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
পারিবারিক কলহ ও হত্যাকাণ্ডের সার্বিক বিবরণ নিচে সারণীবদ্ধভাবে তুলে ধরা হলো:
| পর্যালোচিত বিষয় | সুনির্দিষ্ট তথ্য ও বিবরণী |
| নিহত ব্যক্তির নাম ও বয়স | আমির হোসেন সরদার (৪৫ বছর) |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | ১৬ জুন ২০২৬ (মঙ্গলবার), রাত ১০:০০ ঘটিকা |
| ঘটনার স্থান | পট্টি গ্রাম, গোসাইরহাট উপজেলা, শরীয়তপুর জেলা |
| অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম | জুয়েল সরদার (নিহতের ছোট ভাই) |
| বিরোধের মূল কারণ | ছোট ভাই সোহেলের ২,১০০ টাকা জুয়েল কর্তৃক চুরির ঘটনা |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | কাঠের রোয়া (কাঠের খণ্ড) |
| হত্যার ধরণ | মাথায় সজোরে আঘাতের ফলে সৃষ্ট জখম |
| মৃত্যুর স্থান | শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু |
| বর্তমান আইনি অবস্থা | লাশ ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরিত; আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা | মো. শামসুল আরেফীন (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, গোসাইরহাট সার্কেল) |
পারিবারিক সামান্য আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সহোদর ভাইয়ের হাতে ভাই খুনের এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং পরিবারের দায়েরকৃত মামলার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছে।