খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মজমপুর এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকার দুই সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। হামলায় গুরুতর আহত এক ভিডিও সাংবাদিক বর্তমানে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের ব্যবহৃত ক্যামেরা, মোবাইল ফোন, মাইক্রোফোন এবং নগদ অর্থসহ সর্বমোট ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯৩২ টাকার মালামাল ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালের ১৭ জুন, বুধবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ ও হামলার প্রেক্ষাপট
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক খবরওয়ালা’ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি মো. রঞ্জুউর রহমান এবং ভিডিও সাংবাদিক মো. ইমরান হোসেন বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের মফিজ উদ্দিন বিশ্বাস লেনের ‘তেঁতুল তলা’ নামক স্থানে যান। সেখানে মো. রেজা চৌধুরী নামক এক ব্যক্তির বাড়ির সীমানা প্রাচীর বা দেওয়াল নির্মাণের ক্ষেত্রে নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্য ও ভিডিও চিত্র সংগ্রহ করছিলেন তাঁরা।
তথ্য ও সংবাদ সংগ্রহের একপর্যায়ে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটের দিকে মো. রেজা চৌধুরী এবং মো. সেলিম চৌধুরীর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে। হামলাকারীরা কোদাল, জিআই পাইপ, রড কাটার, হাতুড়ি এবং লোহার রডের মতো মারাত্মক দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে সাংবাদিকদের আঘাত করতে শুরু করে।
ক্ষয়ক্ষতি ও আহতদের চিকিৎসার অবস্থা
সন্ত্রাসী হামলায় ভিডিও সাংবাদিক মো. ইমরান হোসেনের মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। অপর সাংবাদিক বিশেষ প্রতিনিধি মো. রঞ্জুউর রহমানকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা সাংবাদিকদের কাছ থেকে তাঁদের পেশাগত কাজের যন্ত্রপাতি এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
ছিনতাইকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা মূল্যের একটি প্যানাসনিক পিভি-১০০ মডেলের ভিডিও ক্যামেরা, ঊনচল্লিশ হাজার পাঁচশত টাকা মূল্যের দুটি স্মার্টফোন (স্যামসাং এ-১৩ ও ইনফিনিক্স-১২ মডেল), পনেরো হাজার পাঁচশত টাকা মূল্যের একটি বয়া মাইক্রোফোন এবং নগদ ৯,৯৩২ টাকা। হামলার পর আহত সাংবাদিকরা প্রাণভয়ে ঘটনাস্থল থেকে কোনোমতে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন এবং বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। গুরুতর আহত ইমরান হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সাংবাদিক মহলের নিন্দা ও আইনি প্রক্রিয়া
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খন্দকার আল মামুন সাগর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন, ইবি থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল, কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ এবং দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুন্সি শাহীন আহমেদ জুয়েল যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি এজাহার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
হামলার ঘটনা ও ছিনতাইকৃত মালামালের আর্থিক বিবরণী
সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা এবং ছিনতাই হওয়া মালামাল ও মূল্যের বিবরণ নিচে সারণীবদ্ধভাবে উপস্থাপন করা হলো:
| ভুক্তভোগী ও বিবরণী | ব্যবহৃত অস্ত্র ও আসামিপক্ষ | ছিনতাইকৃত মালামাল ও মডেল | নির্ধারিত আর্থিক মূল্য (টাকা) |
| মো. ইমরান হোসেন (ভিডিও সাংবাদিক, খবরওয়ালা) | মো. রেজা চৌধুরী, মো. সেলিম চৌধুরী এবং আরও ১০-১২ জন | প্যানাসনিক পিভি-১০০ ভিডিও ক্যামেরা | ১,২০,০০০/- |
| মো. রঞ্জুউর রহমান (বিশেষ প্রতিনিধি, খবরওয়ালা) | কোদাল, জিআই পাইপ, রড কাটার, হাতুড়ি ও লোহার রড | স্যামসাং এ-১৩ ও ইনফিনিক্স-১২ স্মার্টফোন | ৩৯,৫০০/- |
| ঘটনার স্থান ও সময় | মফিজ উদ্দিন বিশ্বাস লেন, পূর্ব মজমপুর, ১৮ নং ওয়ার্ড | বয়া (Boya) মাইক্রোফোন | ১৫,count/- (১৫,৫০০) |
| চিকিৎসার স্থান | ১০ নম্বর ওয়ার্ড, কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল | নগদ অর্থ | ৯,৯৩২/- |
| সর্বমোট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি | ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯৩২ টাকা | মোট ছিনতাইকৃত মূল্য | ১,৮৪,৯৩২/- |
পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এ ধরনের হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে আসামিদের আইনের আওতায় এনে সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।