খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শনিবার ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় সমন্বিত সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে। রাজধানী তেহরানসহ পশ্চিম ও মধ্য ইরানের একাধিক শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এই অভিযানে প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আকারের সমন্বিত আকাশ অভিযান।
আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, “বহুমাত্রিক ও উচ্চমাত্রার সমন্বয়ের মাধ্যমে শত শত যুদ্ধবিমান একই সময়ে আকাশে মোতায়েন করা হয়।” অভিযানে অংশ নেওয়া বিমানগুলো পশ্চিম ও মধ্য ইরানের বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সামরিক সূত্রের দাবি, শত শত নির্ভুল গোলাবারুদ নিক্ষেপ করে প্রায় ৫০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
আইডিএফের দাবি অনুযায়ী, আঘাত হানা হয়েছে বিশেষ করে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক এবং ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে। পশ্চিম ইরানের তাবরিজ এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। তাদের অভিযোগ, ওই কেন্দ্র থেকে ইসরায়েলের দিকে ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার প্রস্তুতি চলছিল।
নিম্নে অভিযানের সারসংক্ষেপ একটি সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযানে অংশ নেওয়া যুদ্ধবিমান | প্রায় ২০০টি |
| লক্ষ্যবস্তু সংখ্যা | আনুমানিক ৫০০টি |
| হামলার প্রধান এলাকা | তেহরান, পশ্চিম ও মধ্য ইরান |
| প্রধান লক্ষ্য | আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র |
| উল্লেখযোগ্য স্থান | তাবরিজ অঞ্চল |
আইডিএফ জানিয়েছে, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হানার ফলে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের আকাশসীমায় নিজেদের কৌশলগত সুবিধা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের দাবি, পশ্চিম ইরানে অবস্থিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংসের মাধ্যমে ইরানের কেন্দ্রীয় আক্রমণ সক্ষমতায় গুরুতর আঘাত হানা হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সমন্বিত বিমান অভিযান পরিচালনায় উচ্চমানের গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং নিখুঁত সময় সমন্বয় অপরিহার্য। আইডিএফের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এই অভিযান বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা এটিকে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ইতিহাসে “সবচেয়ে বড় সামরিক ফ্লাইওভার” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
তবে হামলার ফলে ইরানে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ বা হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো সূত্র নিশ্চিত তথ্য দেয়নি। ইরান সরকারও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।