খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ১২:২৯ এএম
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অসামাজিক কার্যকলাপ ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ঘটনা প্রকাশ্যে আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্থানীয় উপজেলা বিএনপি।
অব্যাহতি পাওয়া নেতার নাম মিরন হোসেন (জমাদ্দার)। তিনি রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বরত ছিলেন। অব্যাহতির পাশাপাশি দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডকে দল বরদাশত করবে না। মিরন হোসেনের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর একটি অনুলিপি লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপিসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত রোববার রাতে, যখন ফেসবুকে ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ পায়। ওই ভিডিওতে মিরন হোসেনকে অত্যন্ত প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের প্রস্তুতি নেওয়া ও পরবর্তীতে ইয়াবা সেবন করতে দেখা যায়। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়লে রামগঞ্জ ও আশেপাশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষের মাঝেও শুরু হয় কড়া সমালোচনা।
বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হলে সোমবার নিজেই এক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন অভিযুক্ত মিরন হোসেন। সেখানে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো সময়ের নয়। তাঁর দাবি, ২০২২ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মী তাঁকে ভয়ভীতি ও জোরজবরদস্তি করে ওই ভিডিওটি ধারণ করতে বাধ্য করেছিলেন। এতদিন পর রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছে।
তবে তাঁর এই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের দাবি সত্ত্বেও দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেয় উপজেলা বিএনপি এবং তাঁকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়।
মন্তব্য