খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুন ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দলের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে এক কিশোরকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। একটি স্থানীয় দিঘিতে একসঙ্গে গোসল করতে নেমে এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রের ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিচে উপস্থাপন করা হলো।
২০২৬ সালের ১৬ জুন, মঙ্গলবার বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ‘হাওয়া দিঘি’ (স্থানীয়ভাবে হাওয়াই দিঘি নামেও পরিচিত)-তে তিন বন্ধু একসঙ্গে গোসল করতে নামে। গোসল করার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল ফুটবল দলের পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কথা কাটাকাটি ও তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
তর্কাতর্কির একপর্যায়ে অভিযুক্ত দুই কিশোর সাকিব ও রিফাত মিলে তাদের বন্ধু রাহাদ মিয়াকে (১৬) পানির নিচে জোরপূর্বক চুবিয়ে ধরে। দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে চুবিয়ে রাখার কারণে একপর্যায়ে রাহাদ মিয়া অচেতন হয়ে পড়ে এবং দিঘির পানিতেই তার মৃত্যু ঘটে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত কিশোর এবং অভিযুক্তদের প্রাতিষ্ঠানিক ও স্থানীয় পরিচয় নিচে উল্লেখ করা হলো:
নিহত কিশোর: রাহাদ মিয়া (১৬), পিতা: মকবুল হোসেন। সে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের তরফকাল গ্রামের বাসিন্দা ছিল।
অভিযুক্ত প্রথম কিশোর: সাকিব, পিতা: জবান আলী। সে নিহতের সমসাময়িক এবং একই এলাকার বাসিন্দা।
অভিযুক্ত দ্বিতীয় কিশোর: রিফাত, পিতা: সাইদুল ইসলাম। সে-ও একই এলাকার বাসিন্দা ও নিহতের বন্ধু।
ঘটনা বেগতিক দেখে এবং রাহাদকে অচেতন অবস্থায় রেখে অভিযুক্ত সাকিব ও রিফাত দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে দিঘির পাড়ে থাকা স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি টের পেয়ে রাহাদকে পানি থেকে উদ্ধার করে। তখনো স্থানীয়রা রাহাদকে জীবিত ভেবে জরুরি চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাহাদকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পর গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, নিহত কিশোর রাহাদ মিয়ার মরদেহটি উদ্ধার করে বুধবার (১৭ জুন) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন (পোস্টমর্টেম রিপোর্ট) হাতে পাওয়ার পর কিশোরের মৃত্যুর প্রকৃত ও আইনি কারণ সুনির্দিষ্টভাবে জানা যাবে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দুই কিশোর পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার ও অভিযুক্তদের বিবরণসহ সামগ্রিক ঘটনার সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও উপাত্ত |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | ১৬ জুন ২০২৬ (মঙ্গলবার), বিকাল আনুমানিক ৫:৩০ ঘটিকা |
| ঘটনাস্থল ও এলাকা | হাওয়া দিঘি (হাওয়াই দিঘি), রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন, গাইবান্ধা সদর |
| নিহতর নাম ও বয়স | রাহাদ মিয়া (১৬ বছর) |
| অভিযুক্ত ব্যক্তিদ্বয় | সাকিব (পিতা: জবান আলী) এবং রিফাত (পিতা: সাইদুল ইসলাম) |
| ঘটনার মূল কারণ | আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ফুটবল দলের দ্বৈরথ নিয়ে দুই পক্ষের কথা কাটাকাটি |
| আইনি বর্তমান অবস্থা | মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরিত; আসামিদের আটকে পুলিশি অভিযান চলমান |
ফুটবল দলের পক্ষে সমর্থন ও তর্কাতর্কির মতো একটি সাধারণ বিষয়কে কেন্দ্র করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ এই বিষয়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তৎপর রয়েছে।
মন্তব্য