খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ডাকাত দলের হামলায় নিহত হওয়ার অভিযোগ ওঠার দুই দিন পর রিফাত (২৮) নামের এক যুবকের মরদেহ নরসিংদীর মেঘনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল থেকে উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নরসিংদী সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের কান্দাপাড়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় নদীতীরবর্তী একটি ঝোপ থেকে মরদেহটি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত রিফাত নবীনগর উপজেলার থোল্লাকান্দি গ্রামের দাসপাড়ার বাসিন্দা এবং মৃত মোস্তাক আহমেদের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
নৌ-পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, গতকাল বিকেলে কয়েকজন কৃষক নদীতীরে ছাগল চরাতে গিয়ে ঝোপের মধ্যে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা দ্রুত বিষয়টি নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহটি নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে নিহতের বোন মুক্তা বেগম মরদেহ শনাক্ত করেন। তিনি জানান, গত রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তাদের গ্রামের বাড়িতে একদল ডাকাত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা গুলি চালালে রিফাত ঘটনাস্থলেই নিহত হন বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ডাকাত দল নিহত রিফাতের মরদেহ সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এবং পরে মরদেহটি অন্যত্র ফেলে দেয়।
মুক্তা বেগম আরও জানান, ঘটনার পর থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে নদীতীরবর্তী এলাকায় মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, ডাকাতরাই পরিকল্পিতভাবে মরদেহ দূরের নির্জন স্থানে ফেলে রেখে গেছে।
এদিকে নরসিংদী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহটি নদীপথে বা অন্য কোনোভাবে নরসিংদীর চরাঞ্চলে এনে ফেলে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়দের ধারণা, নদীপথ ব্যবহার করে অপরাধীরা মরদেহ সরিয়ে থাকতে পারে, যা ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পুলিশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় তদন্ত শুরু করেছে।
| সময়কাল | ঘটনা |
|---|---|
| রোববার রাত | থোল্লাকান্দি গ্রামে ডাকাত দলের হামলার অভিযোগ, রিফাত নিহত |
| ঘটনার পর | মরদেহ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে |
| মঙ্গলবার বিকেল | নরসিংদীর নদীতীরে মরদেহ দেখতে পান কৃষকরা |
| মঙ্গলবার সন্ধ্যা | নৌ-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে |
| পরে | নিহতের বোন মরদেহ শনাক্ত করেন |
ঘটনাটি এখনো পুরোপুরি রহস্যাবৃত। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং মরদেহ স্থানান্তরের পদ্ধতি জানতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পরিবার দ্রুত বিচার ও দোষীদের শনাক্তের দাবি জানিয়েছে।