গাজীপুর মহানগরের সাইনবোর্ড-ভূষিরমিল এলাকায় নিজ জুয়েলারি দোকানের ভেতর থেকে আবুল কালাম আজাদ (৪২) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রোববার বিকেলে এলাকার ‘সাদিয়া জুয়েলার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত আবুল কালাম আজাদ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ভোলাইন গ্রামের নোনা মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের ভূষিরমিল এলাকার আব্দুল গনি রোডে ‘সাদিয়া জুয়েলার্স’ পরিচালনা করে আসছিলেন এবং ব্যবসার সুবিধার্থে অনেক সময় রাতে দোকানের ভেতরেই রাতযাপন করতেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের অভ্যাসমতো শুক্রবার রাতে কেনাবেচা শেষে দোকানের ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন কালাম। সাধারণত প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যেই তিনি দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করতেন। কিন্তু রোববার পুরো সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেলেও দোকানটি বন্ধ দেখতে পান পাশের ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ সময় দোকান বন্ধ থাকা এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিহতের পরিবারকে জানানো হয়। খবর পেয়ে আবুল কালামের ভাই মো. কামাল উদ্দিন স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে দোকানের সামনে উপস্থিত হন। তারা দেখতে পান বাইরে থেকে দোকানের শাটারে তালা ঝুলছে। কোনো উপায় না পেয়ে তালা ভেঙে ভেতরের দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবাই আঁতকে ওঠেন। ভেতরে মেঝের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল আবুল কালামের নিথর দেহ। তার গলাসহ শরীরের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়।
সংবাদ পেয়ে গাছা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) এবং পিবিআই-এর (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তদন্তকারী দলগুলো দোকান এবং তার চারপাশ থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের পর দোকান থেকে কোনো স্বর্ণালঙ্কার, প্রস্তুত করা গয়না কিংবা ক্যাশ বাক্সে রাখা নগদ অর্থ লুট হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। পিবিআই গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, পিবিআইয়ের একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করেছে। দোকানে থাকা মালপত্র বা মালামালের হিসাব নিখোঁজ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম রাব্বানী গণমাধ্যমকে জানান, পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আবুল কালাম আজাদকে হত্যা করেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে এবং তদন্তের অগ্রগতি হলে হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ স্পষ্ট জানা যাবে।


