বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে জেলার কাশিমপুর ও কোনাবাড়ী এলাকার সীমান্তবর্তী সারাবো-তালতলা এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে তালতলা এলাকার একটি ঝুটের গুদামে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার পরপরই ভোগড়া মডার্ণ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়।
পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তাঁরা। আগুন যাতে গুদামের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের স্থাপনা বা অন্যান্য সম্পদের ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে গুদামে থাকা ঝুটের পরিমাণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপ্তি বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক গোলযোগ, অসতর্কতা কিংবা অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গাজীপুরের কাশিমপুর ও কোনাবাড়ী শিল্পাঞ্চলে বিপুলসংখ্যক পোশাক কারখানা ও সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া কাপড়ের টুকরা ও অন্যান্য বর্জ্য ঝুট হিসেবে বিভিন্ন গুদামে সংরক্ষণ করা হয়। এ ধরনের দাহ্য উপকরণ এক জায়গায় জমা থাকলে অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ কারণে ঝুট গুদামে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সারাবোর গুদামে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।


