খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধুনিক সুবিধার সমন্বয়ে নির্মিত গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরপর দুই দফা চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা মসজিদের ভেতরে ঢুকে অজুখানা ও বাথরুমের পানির ট্যাপ, ঝরনা এবং সানশেডের টাইলস খুলে নিয়ে গেছে। শুধু চুরিই নয়, তারা ভেতরের কয়েকটি অফিস কক্ষ তছনছ করার পাশাপাশি বাথরুমের দরজার তালাও ভেঙে ফেলেছে। এই নজিরবিহীন ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে চুরির এসব তথ্য উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন মসজিদের কেয়ারটেকার মো. আলমগীর হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রশাসন।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই রাতে দ্বিতীয়বারের মতো চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা ভবনের ডাইনিং কক্ষের সানশেডের টাইলস উপড়ে ফেলে ভেতরে ঢোকার পথ তৈরি করে। এরপর বাথরুম থেকে দুটি ট্যাপ ও দুটি মূল্যবান ফিটিংস চুরি করে। পরবর্তীতে তারা দক্ষিণ পাশের গেটের তালা ভেঙে প্রথম তলা থেকে একদম তিন তলার ছাদ পর্যন্ত সবকটি অফিস কক্ষে প্রবেশ করে সেগুলো তছনছ করে। এ সময় ভবনের পাঁচটি বাথরুমের তালা ভেঙে ফেলা হয় এবং ইমাম ও মুয়াজ্জিনের জন্য নির্ধারিত বাথরুম থেকে আরও ১৪টি ট্যাপ খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এর আগে গত ১৪ জুলাই রাতেও একই স্থানে প্রথম দফায় চুরি হয়েছিল। পরদিন ১৫ জুলাই সকালে দায়িত্বরত কর্মীরা এসে দেখতে পান, জেনারেটর কক্ষের পাশের অজুখানা ও বাথরুমের গ্রিলের ফাঁক দিয়ে ভেতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা ১৯টি ট্যাপ এবং একটি দামি ঝরনা খুলে নিয়ে গেছে।
পরপর দুটি চুরির ঘটনার বিবরণ নিচে ছক আকারে তুলে ধরা হলো:
| তারিখ ও সময় | প্রবেশের মাধ্যম/কৌশল | ক্ষয়ক্ষতির ধরন ও চুরিকৃত মালামাল |
| ১৪ জুলাই (রাত) | জেনারেটর কক্ষের অজুখানা ও বাথরুমের গ্রিলের ফাঁক দিয়ে | ১৯টি পানির ট্যাপ ও ১টি ঝরনা চুরি |
| ২৫ জুলাই (রাত) | ডাইনিং কক্ষের সানশেডের টাইলস উপড়ে ও গেটের তালা ভেঙে | ডাইনিং বাথরুম থেকে ২টি ট্যাপ ও ২টি বড় ফিটিংস চুরি |
| ২৫ জুলাই (রাত) | ভবনের দক্ষিণ পাশের গেটের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ | ১ম থেকে ৩য় তলার একাধিক অফিস কক্ষ তছনছ |
| ২৫ জুলাই (রাত) | বাথরুমের দরজার তালা জোরপূর্বক ভেঙে ফেলা | ৫টি বাথরুমের তালা ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন |
| ২৫ জুলাই (রাত) | ইমাম ও মুয়াজ্জিনের জন্য নির্ধারিত বাথরুমে প্রবেশ | ১৪টি পানির ট্যাপ চুরি |
এ ধরনের পবিত্র ও সংবেদনশীল স্থানে বারবার চুরির ঘটনায় স্থানীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মসজিদের নিরাপত্তা জোরদার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন কেয়ারটেকার মো. আলমগীর হোসেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হলেও এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত শুরু করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, “কেয়ারটেকারের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুরো বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। প্রাথমিক তদন্তে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার দায়িত্বে কিছুটা অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি বিশদভাবে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”