চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট থেকে আগ্রাবাদ বারেক বিল্ডিং পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ স্ট্র্যান্ড রোডের অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।
চার বছর আগে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মেরামত হলেও দুই বছরও পাড় হয়নি, আবার সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। বর্ষাকালে ভারী যানবাহনের চলাচলের কারণে ছোট ছোট গর্তগুলো বড় পুকুরে পরিণত হয়, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা সৃষ্টি করছে এবং যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।
সড়কের পাশে কর্ণফুলী নদীতে ২০টি ঘাট থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও কার্ভাডভ্যান পণ্য নিয়ে চলাচল করে। এ যানবাহনগুলো সাধারণত অনুমোদিত ওজনের চেয়ে বেশি ভারি, যা সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে পিচ ওঠা ও গর্তের কারণ হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে ফুটপাত অবৈধ দখলে চলে গেছে, ফলে পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
মুদি দোকানি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষাকালে ছোট গর্তগুলো বড় হয়ে যায়। ট্রাক-পিকআপ গর্তে পড়ে নষ্ট হলে তীব্র যানজট হয়। ঠিকাদাররা ভালো কাজ না করায় পিচ দ্রুত উঠে যায়।’ সিমেন্ট গলি এলাকার বাসিন্দা নাজমুল আলম বলেন, ‘সড়ক ভার বহন করতে পারলেও অনেক গাড়ি অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলাচল করছে, যা সড়কের দ্রুত ক্ষয়ের কারণ।’
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সম্প্রতি সড়ক পরিদর্শনে গিয়ে জানান, ‘গত বছর ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় মেরামত কাজ হয়নি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি, শিগগিরই সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসন ও যানজট কমাতে সড়কটির দ্রুত উন্নয়ন জরুরি।’
মাঝিরঘাট ট্রাক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সিদ্দিক বলেন, ‘স্ট্র্যান্ড রোড দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রাক চলাচল করে। সড়কের বেহাল অবস্থায় দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন।’
সড়কের অবস্থা দ্রুত উন্নত না হলে পথচারী ও চালকদের জন্য বিপদ বাড়বে, যা জেলা ও দেশের অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
খবরওয়ালা/আশ



