চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে অস্ত্র মামলায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত সন্ত্রাসী মো. মাসুদুল করিম ওরফে ‘কিলার মাসুদ’ (৫০) গ্রেপ্তার হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত কিলার মাসুদ ফরিদগঞ্জ উপজেলার চর দুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের পূর্ব লাড়ুয়া গ্রামের মৃত আবদুল হালিম ভূঁইয়ার ছেলে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র থেকে জানা যায়, এক সময়ের ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড কাঁপানো শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হান্নানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন কিলার মাসুদ। পিচ্চি হান্নানের নিজস্ব অস্ত্রভান্ডার নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার অন্যতম দায়িত্ব ছিল তার ওপর। ২০০৪ সালের ২৬ জুন রাতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সাথে কথিত ক্রসফায়ারে পিচ্চি হান্নান নিহত হওয়ার পর থেকেই মাসুদ নিজের এলাকা ও ঢাকার অপরাধ জগৎ ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে নাম ও পরিচয় লুকিয়ে পলাতক জীবনযাপন করছিলেন।
ফরিদগঞ্জ থানার রাজনৈতিক সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মগোপনে যাওয়ার আগে মাসুদ স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ফরিদগঞ্জ যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময়ে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত ড. শামছুল হক ভূঁইয়ার মাধ্যমে তিনি যুবলীগের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার দাপট ও অস্ত্রের জোরে তৎকালীন সময়ে তিনি ফরিদগঞ্জ অঞ্চলে সাধারণ মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্ল্যাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট সহায়তায় পুলিশ প্রথমে চট্টগ্রামে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর ফরিদগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক জুমায়েত হোসেন ও মাসুদ আলম স্থানীয় ডবলমুরিং থানা পুলিশের কৌশলগত সহযোগিতায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
একটি পুরনো অস্ত্র মামলায় আদালত তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছিলেন। রায় ঘোষণার পর থেকে সাজা এড়াতে তিনি দীর্ঘকাল ধরে পলাতক ছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা ওয়ারেন্ট জারি রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সাজাপ্রাপ্ত এই আসামিকে বর্তমানে ফরিদগঞ্জ থানা হাজতে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

