চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলাম যুবদল নেতার চাঁদাবাজির শিকার

প্রখ্যাত ইউরোলজিস্ট ও কিডনি প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম, যিনি বিনা পারিশ্রমিকে দুই হাজারেরও বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন করে মানবসেবায় অনন্য নজির স্থাপন করেছেন এবং স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছেন, এবার চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগে গভীর সংকটে পড়েছেন। রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত তার প্রতিষ্ঠিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্রের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।

অধ্যাপক কামরুল ইসলামের দাবি অনুযায়ী, শেরে বাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন মঈনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রায় এক বছর ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি, কর্মপরিবেশে ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

ডা. কামরুল ইসলাম জানান, গত বছরের জুলাই–আগস্টের পর থেকে চাপের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। কখনো সরাসরি অর্থ দাবি, আবার কখনো রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে এক ব্যক্তি কর্মীদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলছেন এবং নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। তিনি বারবার হুমকিমূলক আচরণ করছেন বলেও ফুটেজে দেখা যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে মো. মঈন উদ্দিন মঈনের নাম উঠে এসেছে। তার সঙ্গে মাঈনুদ্দিন নামের আরেকজনের সম্পৃক্ততার কথাও জানা গেছে, যার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিরোধের মূল সূত্র ছিল হাসপাতালের খাদ্য সরবরাহ (ক্যাটারিং) টেন্ডার। অভিযোগ রয়েছে, মঈন উদ্দিন মঈনকে ওই টেন্ডার না দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং এরপর থেকেই চাপ ও হুমকির মাত্রা বাড়তে থাকে।

এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও কার্যকর ফল মেলেনি বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তবে কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।

অভিযোগ ও অবস্থানের তুলনামূলক চিত্র

বিষয় অভিযোগকারীর বক্তব্য (ডা. কামরুল ইসলাম) অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পুলিশের অবস্থান
চাঁদাবাজি নিয়মিত চাঁদা দাবি ও চাপ প্রয়োগ অস্বীকার বা ভিন্ন ব্যাখ্যা তদন্তাধীন
ভয়ভীতি হাসপাতালে ঢুকে কর্মীদের হুমকি স্বীকার করা হয়নি যাচাই চলছে
টেন্ডার ইস্যু টেন্ডার না পাওয়ায় বিরোধ সৃষ্টি অস্পষ্ট প্রাথমিক তদন্ত
রাজনৈতিক প্রভাব দলীয় পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার অস্বীকৃতি সমঝোতার চেষ্টা চলছে

এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত পক্ষকে নিয়ে থানায় একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগ এখনও রেকর্ড হয়নি; বিষয়টি মূলত একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ডা. কামরুল ইসলামের দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ বিরোধ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা সংগঠিত চাপ ও চাঁদাবাজির অংশ। তিনি নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ঘটনাটি রাজধানীর চিকিৎসা খাতে নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।