খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২০ কেজি গাঁজাসহ এক মা ও তার ছেলে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে র্যাব নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গোবিন্দপুর গ্রামের মো. রাসেলের স্ত্রী রোবিনা আক্তার (৩৮) এবং তাদের ছেলে মো. রিফাত (২৫)। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং একটি সংগঠিত চক্রের অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করতেন।
র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গোবিন্দপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। সন্দেহভাজন গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পর অভিযান চালিয়ে মা-ছেলেকে আটক করা হয়। পরে তাদের হেফাজত তল্লাশি করে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যা প্রাথমিকভাবে পাইকারি বাজারে সরবরাহের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে মাদক সংগ্রহ করে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি ও খুচরা দামে বিক্রি করতেন। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কে আরও কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে, যাদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
র্যাব-১১ এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দপুর ও আশপাশের কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলকে মাদক চোরাচালানের একটি সংবেদনশীল করিডর হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে পরিস্থিতি।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে, পারিবারিকভাবে জড়িত হয়ে মাদক ব্যবসার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের প্রবণতা কিছু এলাকায় উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা ও বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি না হলে মাদক চক্র সম্পূর্ণ নির্মূল করা কঠিন হয়ে পড়বে।
নিচে ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযানকারী সংস্থা | র্যাব-১১, সিপিসি-২ |
| অভিযান এলাকা | গোবিন্দপুর, বুড়িচং, কুমিল্লা |
| গ্রেপ্তার ব্যক্তি | রোবিনা আক্তার (৩৮), মো. রিফাত (২৫) |
| পারিবারিক সম্পর্ক | মা ও ছেলে |
| উদ্ধারকৃত মাদক | ২০ কেজি গাঁজা |
| অভিযানের সময় | বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত |
| অভিযোগ | সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ ও বিতরণ |
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে, যাতে পুরো নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করা যায়। মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করার কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মাদক চোরাচালান কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে, তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।