বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে দেয়ালে লেখা এসব স্লোগান। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হলে ঘটনাস্থলে যায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেয়ালের লেখাগুলো মুছে ফেলে।
ঘটনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, এ ঘটনায় যেসব ছাত্রীর নাম উঠে এসেছে, তাঁদের অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে ডাকা হবে। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনাটি তদন্তের অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেছে পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা হিমেল রানা জানান, ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেয়ালে স্লোগান লেখার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ছাত্রীরা আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট পরিবারের সন্তান এবং তাঁদের দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এসব স্লোগান লেখানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকির হোসেন জ্যাকিসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দেয়ালে লেখা স্লোগানসংবলিত পোস্টটি নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছেন। এসব পোস্ট শেয়ার করে তাঁদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
ঘটনাটি ঘিরে কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ, বিদ্যালয়ের আশপাশের পরিবেশ এবং এ ধরনের ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে দেয়ালে স্লোগান লেখার পেছনে সংশ্লিষ্ট ছাত্রীদের ভূমিকা, তাঁদের উদ্দেশ্য এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পুলিশের পক্ষ থেকেও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তাই অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ।


