সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কীভাবে তিনজন ব্যক্তি জোরপূর্বক একজন বৃ্দ্ধের চুল কেটে দিচ্ছেন। বৃদ্ধ ব্যক্তি অনেকক্ষণ চেষ্টা করেন নিজেকে রক্ষা করতে, কিন্তু না পেরে শেষ পর্যন্ত অসহায়ভাবে বলেন, “আল্লাহ, তুই দেহিস।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বৃদ্ধের নাম হালিম উদ্দিন, বয়স ৭০। ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। হালিম উদ্দিনকে সবাই হালিম ফকির নামে চেনে। তিনি মানসিকভাবে সুস্থ, পাগল নন। সংসার জীবনে তিনি পুত্র ও কন্যাসন্তানের জনক। দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে তার মাথায় জট থাকলেও তিনি হজরত শাহজালাল (র.) এবং শাহ পরানের (র.) ভক্ত। আগে পেশায় কৃষক ছিলেন, বর্তমানে ফকিরি জীবন যাপন করছেন এবং টুকটাক কবিরাজিও করেন।
স্থানীয়দের কথামতো, গত কোরবানির ঈদের কয়েক দিন আগে উপজেলার কাশিগঞ্জ বাজারে হঠাৎ করেই একদল লোক এসে তাঁর মাথার জট, দাড়ি ও চুল জোরপূর্বক কেটে দেন। প্রতিবাদ করতে গেলে বৃদ্ধের ওপর শারীরিক বল প্রয়োগ করা হয়।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহ বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম হালিম উদ্দিনকে দেখতে যান। সেই সময় হালিম উদ্দিন ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
বৃদ্ধ হালিম উদ্দিন বলেন, ‘সেদিন (ঘটনার দিন) সকালে বাজারে একটি দোকানে বইছিলাম। কোদালিয়ার একটা লোক আমারে হুইজ (জিজ্ঞাসা) করে, কই যাইবাম। তহন কই, লালমা (গ্রাম) যাইবাম। কয়, অতো আগ্গয়া (দূরে)! তহন আমি হাঁইট্টা যাওনের লাইগ্যা পথ দেই। হিও এইবায় আয়া মোবাইল করছে হেরারে। পরে হেরা বাইর অইছে, আমারে আটকাইছে। আমি ঘরে বইয়া আছিলাম। আমারে ছেছরাইয়া বাইর কইরা এই কাম করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার তো শক্তি কোলাই না। ৮-১০ জনে ধইরাললে কী করণ। আমারে ফালায়া দিয়া হুতাইয়া চুল কাটছে। হেইবালা আমি বেহুঁশ হয়া গেছিলাম।’
সেই ঘটনার শারীরিক ও মানসিক আঘাত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি বৃদ্ধ হালিম উদ্দন। বাইরে বের হতে অস্বস্তি বোধ করেন। তিনি বলেন, ‘হেই থাইক্কা আমি কামকাজ করতে পারি না, বাজারে আইতারি না, ঘরবৈঠক আমি। রোগী ঝাড়তে পারি না। আসকা মাইরা শইল বেহুঁশ হইয়া যায়, মাথাত পানি ঢালন লাগে (হঠাৎ হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন, মাথায় পানি ঢালতে হয়)।’
যাঁরা চুল কেটে দিলেন, তাঁদের বিচার চান কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো কিছু কই না, যা করে মালিকে করব।’
খবরওয়ালা/এমএজেড



