খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল থেকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বহু মানুষ আহত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও দোকান সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা গ্রাম এবং বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের মধ্যে ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। সোনাপুর গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে মাসকরা গ্রামের এক তরুণের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা তাদের দুজনকে আটক করে মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর আরও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন একটি পক্ষের মধ্যে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে যে প্রতিপক্ষের লোকজন “ডাকাত প্রবেশ করেছে” বলে ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণার পর উত্তেজিত জনতা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে সোনাপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম মাসুম গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শনিবার বিকেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। সোনাপুর গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে মাসকরা গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত দুটি দোকান এবং প্রায় ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এর পাল্টা জবাবে মাসকরা গ্রামের লোকজন সোনাপুর গ্রামের ছাদেক মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে চারটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায় বলে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ড ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিকেল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ রাত পর্যন্ত চলতে থাকে এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আগুন নেভানোর কাজ করে।
চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা একাধিক স্থানে আগুন জ্বলতে দেখেন। দ্রুত চেষ্টা করা হলেও ততক্ষণে কয়েকটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষের কারণে ছাদেক মিয়ার পরিবার বর্তমানে গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সংঘর্ষের স্থান | কনকাপৈত ও বাতিসা ইউনিয়ন, চৌদ্দগ্রাম |
| সংঘর্ষের সময় | শনিবার বিকেল থেকে রাত |
| প্রধান কারণ | ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে উত্তেজনা |
| আহতের সংখ্যা | একাধিক (উভয় পক্ষ) |
| ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর | প্রায় ২০টি ভাঙচুর, ৪টি বসতঘর পুড়ে যায় |
| ক্ষতিগ্রস্ত দোকান | অন্তত ২টি |
| অগ্নিনির্বাপণ | ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট |
| আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা | পুলিশ মোতায়েন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে |
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে ঘটনার তদন্ত ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।