মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার পাঁচ

সাভারে এক মাদ্রাসাছাত্রকে প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দুই শিক্ষকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে শুরু হওয়া অভিযান শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় চালানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদ্রাসার তিন কিশোর শিক্ষার্থী এবং দুই শিক্ষক রয়েছেন।

শনিবার দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ঈশান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সাভার মডেল থানা, আশুলিয়া থানা এবং গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, বরগুনা, ভোলা, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১২, ১৩ ও ১৫ বছর বয়সী তিন কিশোর রয়েছে। তারা ওই মাদ্রাসারই শিক্ষার্থী। অন্য দুজন হলেন মাদ্রাসার শিক্ষক জাবের হোসেন, বয়স ২১ বছর, এবং মো. কামরুল ইসলাম, বয়স ২৬ বছর।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তিন কিশোর শিক্ষার্থী ও শিক্ষক জাবের হোসেন ভুক্তভোগী শিশুটিকে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করেছেন। আর ঘটনাটি যাতে শিশুটি পরিবারের সদস্যদের জানাতে না পারে, সে জন্য তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে শিক্ষক কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারদের কয়েকজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কেউ কেউ পুলিশের কাছে অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে ব্রিফিংয়ে দাবি করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের বক্তব্য বা জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া অন্যান্য তথ্য বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের করা অভিযোগ থেকে। মামলার আবেদনে শিশুটির বাবা উল্লেখ করেন, প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে তার সন্তানকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট তিনি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের আদালতে মামলা করার আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে সাভার মডেল থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মামলার আরজিতে সাভারের পূর্ব শাহবাগ এলাকার ওই মাদ্রাসার পাঁচ শিক্ষার্থী, চার শিক্ষক এবং পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে পাঁচ শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণের সরাসরি অভিযোগ রয়েছে। অন্য তিন শিক্ষক ও মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, তারা বিষয়টি জানার পর শিশুটিকে আইনি সহায়তা বা সুরক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে মারধর ও হুমকি দিয়েছেন।

পুলিশ বলছে, মামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের বিষয়ে তদন্ত চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ঈশান বলেন, ঢাকা জেলা পুলিশ মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এবং বাকি আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে পাঠানো হবে।

এ ধরনের অভিযোগে ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা, মানসিক সুরক্ষা এবং তদন্তের নিরপেক্ষতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক | খবরওয়ালা বাংলা

https://bn.khaborwala.com/

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।