ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের গভীর জঙ্গলে মাওবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দেশটির একজন নিরাপত্তা জওয়ান। পাল্টা অভিযানে নিহত হয়েছেন ২৭ জন মাওবাদী বিদ্রোহী, যাদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা। বুধবার (২১ মে) রাজ্যের নারায়ণপুর জেলার বনে এই ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, জেলা রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে কমান্ডোরা গুলি চালিয়ে মাওবাদীদের দমন করে। এই অভিযানে ডিআরজি-র একজন সদস্য নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
ছত্তিশগড় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংঘর্ষে মাওবাদীদের শীর্ষ নেতা বাসব রাজু ওরফে নাম্বালা কেশব রাও নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুকে মাওবাদী দমনে ভারতের এক ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বস্তার রেঞ্জের পুলিশ আইজি সুন্দররাজ পি বলেন, ‘তীব্র গোলাগুলির সময় এক ডিআরজি সদস্য শহীদ হয়েছেন। তল্লাশি ও ক্লিয়ারিং অপারেশন এখনো চলছে।’
সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আবুঝামাদের এক নির্দিষ্ট এলাকায় একজন সিনিয়র মাওবাদী নেতা লুকিয়ে আছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণপুর, দান্তেওয়াড়া, বিজাপুর ও কোন্ডাগাঁও জেলার বিভিন্ন স্থানে যৌথ অভিযান চালানো হয়।
এই চার জেলা মূলত মাওবাদী তৎপরতার জন্য পরিচিত। অভিযান পরিচালনা করে জেলা রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি) – যারা মূলত স্থানীয় ও অভিজ্ঞ কমান্ডোদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ বাহিনী।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই সফলতাকে বড় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসব রাজু সহ ২৭ জন মাওবাদীকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। গত তিন দশকের মধ্যে এই প্রথম মাওবাদী শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ — সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদার — অভিযান চালিয়ে নির্মূল করা হলো।’
ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেন, ‘এই অভিযানগুলো মূলত ডিআরজি বাহিনী পরিচালনা করেছে। আমি তাদের সাহসিকতাকে স্যালুট জানাই। আমরা বহুবার মাওবাদীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছি। এখন আর বারবার বলার কিছু নেই।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অভিযান মাওবাদীদের জন্য বড় ধাক্কা। কারণ শীর্ষ নেতৃত্ব হারালে সংগঠনের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে পারে। একইসঙ্গে মাওবাদীদের দমন অভিযানে এটি ভারতের জন্য বড় অর্জন।
ছত্তিশগড়ে এই বন্দুকযুদ্ধে ২৭ বিদ্রোহীর মৃত্যু এবং একজন নিরাপত্তাকর্মীর শাহাদাত মাওবাদী সমস্যা মোকাবিলায় ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ে একটি মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অভিযান শেষ না হলেও এখনো এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি



