খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ২:৩৮ পিএম
কুমিল্লার দেবিদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে চরম অনিয়ম ও অবহেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নিজে মূল্যায়ন না করে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে দিয়ে এসএসসির খাতা দেখানোর অপরাধে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ওই ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলার আব্দুল্লাহপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—দেবিদ্বারের আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া এবং একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসান। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরীক্ষকদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নানা মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার (দেবিদ্বার সার্কেল) শাহীন আলম এই গ্রেফতারের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণীকক্ষে বসে এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করছে দশম শ্রেণীর ছাত্র মেহেদী হাসান। চলতি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের খাতা পরীক্ষক বাচ্চু মিয়া নিজে না দেখে তাঁর ছাত্রকে দিয়ে নম্বর দেওয়াচ্ছিলেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং মূলধারার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তাদের নজরে আসে।
ভিডিওটি দেখার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে এমন চরম গাফিলতির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর এই কড়া নির্দেশনার পর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত করা হয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়াকে এবং এতে সহযোগী হিসেবে ছাত্র মেহেদী হাসানকেও আসামি করা হয়।
মামলা রুজু হওয়ার পর আর সময় নষ্ট করেনি প্রশাসন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শনিবার রাতেই আব্দুল্লাহপুর এলাকায় অভিযান চালায় এবং অভিযুক্ত শিক্ষক ও ছাত্রকে গ্রেফতার করে।
কুমিল্লা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, মামলার এজাহারের ওপর ভিত্তি করে এবং তদন্তের স্বার্থে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জড়িত এমন একটি বিষয়ে শিক্ষকের এই অবহেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে পরীক্ষকের প্যানেল থেকে স্থায়ীভাবে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মন্তব্য