খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় হঠাৎ করেই শিয়ালের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। এক রাতে একটি বা একদল শিয়ালের বেপরোয়া আক্রমণে অন্তত ১৪ জন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছেন। আহতদের এই তালিকায় নারী, পুরুষ থেকে শুরু করে অবুঝ শিশুও রয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়ন এবং শ্রীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একই রাতে এত মানুষকে শিয়ালের কামড়ানোর ঘটনায় পুরো এলাকায় এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরেই শ্রীপুরের বিভিন্ন ঝোপঝাড় ও জঙ্গলসংলগ্ন এলাকায় বন্য শিয়ালের আনাগোনা লক্ষ করা যাচ্ছিল। তবে শনিবার সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেয়। হঠাৎ করেই লোকালয়ে প্রবেশ করে পথচারী ও সাধারণ মানুষের ওপর হিংস্রভাবে চড়াও হতে শুরু করে শিয়াল। কোনো কোনো এলাকায় শিয়াল এতটাই হিংগ্র হয়ে উঠেছিল যে, রাস্তার মানুষকে আক্রমণ করার পাশাপাশি সরাসরি বসতঘরে ঢুকেও কামড়াতে শুরু করে। আচমকা এই হামলায় সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েন।
এই ঘটনায় আহতদের অনেকের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—আকাশ (১৩), নাঈম (১১), মাজেদা (৪৫), রোজিনা (৩৬), হেলেনা আক্তার (৪০), আশরাফুল ইসলাম (২৬), শেফালী (৩৪), সাইফুন্নাহার (২৩) ও আরাফ (১৪)। বাকি আহতদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও তারা সবাই স্থানীয়ভাবে ও হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
পৌরসভার ভাংনাহাটি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, রাতে স্থানীয় কামিল মাদ্রাসাসংলগ্ন একটি বাড়িতে আচমকা একটি শিয়াল ঢুকে পড়ে। ঘরে থাকা দুই নারী কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিয়ালটি তাদের কামড়ে রক্তাক্ত করে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে শিয়ালটি পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকে বিশেষ করে ছোট ছেলেমেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকেরা। সন্ধ্যার পর গ্রামের রাস্তাঘাট একেবারে জনশূন্য হয়ে পড়ছে এবং মানুষ লাঠিসোঁটা ছাড়া ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আলী আজগর সোহাগ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিয়ালের কামড়ে জখম হওয়া অন্তত ১৪ জন ব্যক্তি হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের সবাইকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা, ক্ষতস্থান পরিষ্কার এবং জলাতঙ্কের প্রতিষেধক (ভ্যাকসিন) দেওয়া হয়েছে। আহতদের কাউকেই হাসপাতালে ভর্তি করার মতো গুরুতর অবস্থা ছিল না, তাই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা বাড়ি ফিরে গেছেন।
প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হলে কিংবা আবাসস্থল ও খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিলে বন্য শিয়াল এভাবে লোকালয়ে ঢুকে মানুষের ওপর আক্রমণ চালায়। এদিকে বন্যপ্রাণীর এমন আক্রমণাত্মক আচরণে বিপন্ন বোধ করছেন স্থানীয়রা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্যপ্রাণী নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শ্রীপুরের বাসিন্দারা, যাতে দ্রুত এই শিয়ালগুলোকে খাঁচাবন্দি বা তাড়ানোর ব্যবস্থা করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।