মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত জিতেশ চন্দ্র গোপ কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার যাদব চন্দ্র গোপের ছেলে।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, জিতেশের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে। ওই অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না। এ সময় তাঁকে কারাগারের নির্ধারিত সেলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জিতেশ চন্দ্র গোপ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের একটি মার্কেটে ফার্মেসির ব্যবসা করতেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই ফার্মেসির ভেতরেই শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্না হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। হত্যার পর তাঁর মরদেহ ছয় টুকরো করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি মরদেহ গুমের চেষ্টার বিষয়টিও বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব পেয়েছে। আদালত হত্যা ও মরদেহ গুমের চেষ্টার অপরাধে পৃথক সাজা ঘোষণা করেন। হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং মরদেহ গুমের চেষ্টার দায়ে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নেওয়ার বিধান বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিম্ন আদালত মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করলেও উচ্চ আদালতের অনুমোদন ছাড়া তা কার্যকর করা যায় না। ফলে এ রায়ের পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঘোষিত এ রায় চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডটির বিচারিক নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে রায়ের পরবর্তী কার্যক্রমে উচ্চ আদালতের অনুমোদনসহ প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।


