জমি থেকে ৫ কোটি টাকার বালু চুরির অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

সুনামগঞ্জের ধোপাজান নদীর তীরের ব্যক্তিমালিকানাধীন ফসলি জমি থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বালু চুরির অভিযোগে ‘লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

মামলাটি বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর আদালতে করেন গোলাম হোসেন, যিনি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের দক্ষিণ আরপিননগর এলাকার বাসিন্দা। বিচারক মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. নাজমুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় বলা হয়েছে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রতারগাঁও মৌজার ধোপাজান নদীর তীরে বাদীর পরিবারের ২ একর ৪০ শতক ফসলি জমি রয়েছে। জমি নিয়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা চলমান। কিন্তু লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং ওই জমি থেকে অনুমতি নিয়ে জোরপূর্বক নদের পাড় কেটে বালু উত্তোলন করেছে এবং ফসলি জমি নষ্ট করেছে।

বাদী অভিযোগ করেছেন, ২৭ অক্টোবর রাতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে লিমপিডের কর্মীদের ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেখেন। বাধা দিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, আসামিপক্ষ তাঁর জমি থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বালু তুলে বিক্রি করেছে, যার ফলে জমির একাংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত ধোপাজান নদী ভারত সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসে। নদীর ইজারা ২০১৮ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। অবাধ বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙন ও পরিবেশগত ক্ষতি হওয়ায় সরকার ইজারা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। নদীটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে।

ইজারা বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ধোপাজান নদ থেকে প্রকাশ্যে বালু লুট শুরু হয়। দুই মাসে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। জুলাই মাসে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিংকে ১ কোটি ২১ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজে বালু ব্যবহার করা হবে। তবে ধোপাজান নদী বিআইডব্লিউটিএর আওতাভুক্ত নয়।

আগস্টে জেলা প্রশাসন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায়, নদীতে বিটি বালু নেই, উন্নতমানের সিলিকা বালু আছে। অনুমতি দিলে আইনশৃঙ্খলা অবনতি হতে পারে এবং অনুমোদনপ্রক্রিয়া বিধিসম্মত নয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন, সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদানসহ বালু উত্তোলনের বিরোধিতা করে আসছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি গত বুধবার একই দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে।

মুসলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি এ কে এম আবু নাছার বলেন, প্রতিবাদ করা হচ্ছে, কিন্তু কোনো ফল হচ্ছে না। বড় বালুখেকোরা স্থানীয় প্রভাবশালী ও সুবিধাভোগীদের মাধ্যমে বালু তুলে বিক্রি করছে। বালু লুট বন্ধ করতে হবে।

খবরওয়ালা/টিএসএন

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।