কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বসতবাড়ির জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক বিরোধের জের ধরে বড় ভাইয়ের দায়ের কোপে আতাউল মালিথা (৫৬) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা দুইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ডাংমড়কা মধ্যপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আতাউল মালিথা ওই গ্রামের মৃত রাহাতুল্লাহ মালিথার ছোট ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের বসতবাড়ির জমির ভাগবাটোয়ারা ও সীমানা নিয়ে আতাউল মালিথার সঙ্গে তাঁর বড় ভাই তোফাজ্জেল মালিথার বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শনিবার দুপুরে আতাউলের বসতঘরের পেছনের অংশে সেই জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই ভাই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় বড় ভাই তোফাজ্জেল মালিথা ক্ষুব্ধ হয়ে ঘরের ভেতরে থাকা ধারালো দা এনে ছোট ভাই আতাউলের মাথায় সজোরে কোপ দেন। ধারালো অস্ত্রের প্রচণ্ড আঘাতে আতাউল মাথায় মারাত্মক জখম পেয়ে রক্তাত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার পর আতাউলের চিৎকার ও স্বজনদের কান্নাকাটিতে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় রক্তাক্ত আতাউলকে উদ্ধার করে প্রথমে দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে (মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) পাঠানোর নির্দেশ দেন। স্বজনেরা তাঁকে দ্রুত কুষ্টিয়ায় নিয়ে ভর্তি করালেও শেষ রক্ষা হয়নি; সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, জমিজমা–সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জের ধরে বড় ভাইয়ের দায়ের কোপে ছোট ভাই মারাত্মক আহত হন এবং পরবর্তীতে কুষ্টিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত তোফাজ্জেল মালিথা পলাতক রয়েছেন, তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


