রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বর এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে বাসের চালক ও সহকারীদের লক্ষ্যভিত্তিক সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ‘বিহঙ্গ পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নেভানো সম্ভব হওয়ায় বাসের পেছনের দুটি আসনের উপরিভাগ ছাড়া বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং কেউ হতাহত হননি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাসটি কিছুক্ষণ আগেই নির্ধারিত ট্রিপ শেষ করে যাত্রী নামিয়ে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ফাঁকা জায়গায় পার্ক করে রাখা হয়েছিল। ঘটনার সময় বাসটি পুরোপুরি যাত্রীশূন্য থাকায় সৌভাগ্যবশত বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, বাসের ভেতরে আলো জ্বালিয়ে যখন চালক ও সহকারীরা সারা দিনের আয় করা ট্রিপের টাকা গোনাগুনিতে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই বাইরে থেকে হঠাৎ এসে বাসে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। বাসের ভেতরে থাকা কর্মীরা পেছনের দিকে আচমকা আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ চিৎকার শুরু করেন এবং গাড়ি থেকে নেমে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাঁদের সচেতনতায় বাসের শেষ দিকের দুটি সিটের ওপরের কিছু অংশ ছাড়া আর বড় কোনো ক্ষতি হতে পারেনি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারা এলাকার প্রগতি সরণিতে ‘বৈশাখী পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া তার আগের দিন বৃহস্পতিবার রাজধানীর রায়েরবাজার কৃষি মার্কেটের সামনে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যাতে ভ্যানের চালক মারাত্মকভাবে আহত হন। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বাসে ও কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগের এসব ঘটনা রাজধানীর যাত্রী, পথচারী এবং পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।


