ময়মনসিংহের নান্দাইলে বালুভর্তি ট্রাক ও যাত্রীবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই পোশাকশ্রমিক নিহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নান্দাইল-ত্রিশাল সড়কের বাহাদুর নগর এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত আরও তিন যাত্রী। নিহতদের আনুমানিক বয়স ৪০ বছর হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে তাঁরা উভয়েই তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন—নেত্রকোনার মল্লিকপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বির (৩৫), একই এলাকার আব্দুল জলিলের দুই ছেলে ইকবাল হোসেন রানা (৩৫) ও তাঁর ছোট ভাই মাজহারুল ইসলাম (২০)। আহতদের স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপের চালক কবিরুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেল ৪টার পর নেত্রকোনা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে অন্তত ২২ জন গার্মেন্টসকর্মীকে যাত্রী হিসেবে তুলে গাজীপুরের মাওনার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় পিকআপটি। পথিমধ্যে নান্দাইলের বাহাদুর নগর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা একটি বালুভর্তি ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বালুভর্তি ট্রাকের প্রচণ্ড ধাক্কায় পিকআপে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী ছিটকে শক্ত সড়কে পড়ে যান। এ সময় ট্রাকচাপায় মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ইকবাল হোসেন রানা জানান, তিনি গাজীপুরের মাওনা এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত রয়েছেন। ছুটি শেষে শনিবার বিকেলে ছোট ভাই মাজহারুলকে সঙ্গে নিয়ে নেত্রকোনার বাঁশহাটি এলাকা থেকে মাওনার উদ্দেশ্যে পিকআপে উঠেছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে নান্দাইল এলাকায় পৌঁছাতেই আচমকা সড়ক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন তাঁরা।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই নান্দাইল ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাঁরা নিহত দুই পোশাকশ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে নিহতদের মরদেহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে রাখা রয়েছে। নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর যাত্রীবাহী পিকআপটি আটক করতে সক্ষম হলেও ঘাতক ট্রাকটি নিয়ে চালক কৌশলে পালিয়ে গেছে। চালককে গ্রেফতার ও ট্রাকটি জব্দ করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে নিহত দুই ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।


