শনিবার (৭ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হামবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এসব মৃত্যু ও নতুন রোগী শনাক্তের ঘটনা ঘটেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট এক হাজার ২৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৫ জন। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন এক হাজার ১৭৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৮৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হওয়ায় ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৩৭ হাজার ৭০২ জনে। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ৬১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৩৫৫ জনে।
হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ভর্তি হয়েছেন মোট দুই লাখ ১১ হাজার ৮৬৫ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুই লাখ তিন হাজার ২৫৭ জন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও তাঁদের একটি বড় অংশ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবে প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে নির্গত ক্ষুদ্র জলকণার সংস্পর্শে অন্যদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এ রোগের সাধারণ লক্ষণ। কিছু ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা শিশুর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র বুঝতে দুই ধরনের হিসাবই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি, চিকিৎসা শেষে সুস্থ হওয়া এবং মৃত্যুর তথ্য পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছে।
এ অবস্থায় শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের জ্বরের সঙ্গে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর এই ধারাবাহিকতা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। নতুন রোগী শনাক্তের হার এবং মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং টিকাদান কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


