ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোর ৪টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের মাওয়ামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ইতালি প্রবাসী রাসেল মাতব্বরকে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করে তার স্বজনরা মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি শ্রীনগর ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার তীব্রতায় মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরা আঘাত পান। চালক মো. ইব্রাহিম গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ায় তাকে বের করতে উদ্ধারকর্মীদের বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হয়।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার বলসা গ্রামের রুম্পা খাতুন (৩৫), মিম আক্তার (১৮), খাদিজা আক্তার (১৮), ইতালি প্রবাসী রাসেল মাতব্বর (৩০), সিরাজ মাতব্বর (৭০), রনি মাতব্বর (২৮) ও মেহেদী (৩৫)। এ ছাড়া মাইক্রোবাসচালক মো. ইব্রাহিম (৩৬), যিনি ঢাকার খিলগাঁওয়ের গোরান এলাকার বাসিন্দা এবং ময়মনসিংহের আল-আমিন (৩০) আহত হয়েছেন।
খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে গাড়ির ভেতরে আটকে পড়া চালকসহ আহতদের উদ্ধার করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে সবাইকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম পিএফএম দুর্ঘটনা এবং উদ্ধার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ। এই মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে যানবাহন থামানো বা দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রাতে ও ভোরে দৃশ্যমানতা কম থাকায় চালকদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মহাসড়কের পাশে যানবাহন না থামানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীনগরের এই দুর্ঘটনায় একই গাড়িতে থাকা নয়জন আহত হওয়ায় আবারও মহাসড়কে নিরাপদে যান চলাচলের বিষয়টি সামনে এসেছে।


