এ ঘটনায় কিশোরীর মা রওশন আরা সোনারগাঁ থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনকে বুধবার নারায়ণগঞ্জের আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, রওশন আরার সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই জাকির হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে জাকিরের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে। ওই দিন বেলা দুইটার দিকে রওশন আরা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে যান। তখন বাড়িতে ছিল তাঁর মেয়ে কিশোরী আফরিন। পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে সোনিয়া ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত আফরিনের শরীরে গরম পানি ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কিশোরীর কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।
কিশোরীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন ছিল আফরিন। চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনাও এই দ্বন্দ্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়। মোবাইল ফোনটি হারানোর জন্য আফরিনকে দায়ী করা হয়েছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সোনিয়া তাঁর মেয়ের শরীরে গরম পানি ঢেলে দেন বলে অভিযোগ করেছেন রওশন আরা।
ঘটনার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়েছিল ভুক্তভোগী পরিবার। বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রামে কয়েক দফা সালিশও অনুষ্ঠিত হয়। তবে এসব উদ্যোগে কোনো সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত ঘটনার প্রায় এক মাস পর রওশন আরা আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
গত সোমবার তিনি সোনারগাঁ থানায় চারজনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এরপর পুলিশ কান্দাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকির হোসেন ও সোনিয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করে।
রওশন আরা বলেন, জমি নিয়ে তাঁর ভাই ও ভাবির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর মেয়েকে দোষারোপ করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁর অভিযোগ, ওই বিরোধের জেরেই মেয়ের শরীরে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয়। এতে মেয়েটি গুরুতরভাবে দগ্ধ হয় এবং দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।
তিনি আরও জানান, মেয়েকে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দফা বৈঠকেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত থানায় মামলা করেন তিনি।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, কিশোরীকে গরম পানি দিয়ে ঝলসে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বুধবার আদালতে পাঠানো হবে। ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের হলেও দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শুরুতে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সমাধান না হওয়ায় ভুক্তভোগীর মা মামলা করেছেন।
পারিবারিক বিরোধের জেরে কিশোরীর শরীরে গরম পানি ঢেলে দেওয়ার এই অভিযোগ এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।


