বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম আরও একটি নতুন মহাকাব্য রচনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। লাল-সবুজের পতাকাতলে দেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য ৭ হাজার রানের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছেন জাতীয় দলের সাবেক এই সফল অধিনায়ক।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মাঠে নামার আগে অনন্য এই উচ্চতায় পৌঁছাতে মুশফিকের প্রয়োজন কেবল আর ৪৩টি রান। এই রান সংগ্রহ করতে পারলেই বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে সাত হাজারি ক্লাবে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করবেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।
২০০৫ সালে তৎকালীন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ তরুণ হিসেবে ক্রিকেটের তীর্থভূমি লর্ডসে পরাশক্তি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমের টেস্ট অভিষেক ঘটেছিল। সময়ের পরিক্রমায় কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নিজেকে দেশের অন্যতম সেরা সেরা ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের টেস্ট ক্যারিয়ারে দেশের জার্সিতে এ পর্যন্ত ১০৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই সিনিয়র ব্যাটার। ১৯৫টি ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৯.০৮ গড়ে তিনি ইতোমধ্যে সংগ্রহ করেছেন ৬,৯৫৭ রান।
টেস্ট ক্যারিয়ারে মুশফিক কেবল রানই বানাননি, দলকে বহু স্মরণীয় জয়ের পথ দেখিয়েছেন। তাঁর দীর্ঘ পরিসংখ্যানের ঝুলিতে রয়েছে ৩টি চমৎকার ডাবল সেঞ্চুরি, ১৪টি সেঞ্চুরি এবং ৩০টি হাফ সেঞ্চুরি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট ব্যাটার হিসেবে ৩টি দ্বিশতক হাঁকানোর বিরল রেকর্ডের মালিকও তিনি।
আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের দীর্ঘ পথচলায় মুশফিকুর রহিম ইতোমধ্যে দেশের প্রথম ও একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ১০০টি টেস্ট ম্যাচ খেলার অবিসংবাদিত কীর্তি গড়েছেন। গত বছর মিরপুরের প্রিয় প্রাঙ্গণেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক শততম টেস্ট ম্যাচটি খেলতে নেমেছিলেন তিনি। স্মরণীয় সেই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত ১০৬ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে তিনি ইতিহাসের পাতায় নতুন করে জায়গা করে নেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রথম এবং বিশ্ব ক্রিকেটের মাত্র ১১তম ব্যাটার হিসেবে নিজের ১০০তম টেস্টে সেঞ্চুরি করার এক দুর্লভ সম্মান অর্জন করেন মুশফিক।
প্রতিপক্ষ ক্যারিবীয়দের বিপক্ষেও মুশফিকের ব্যাটিং পরিসংখ্যান বেশ সমৃদ্ধ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৪টি টেস্টে মাঠে নেমে ২৭টি ইনিংসে ব্যাটিং করেছেন তিনি। ৩১.২৮ গড়ে ১টি শতক ও ৩টি অর্ধশতকের সাহায্যে তিনি মোট ৭৮২ রান সংগ্রহ করেছেন। মিরপুরের স্পিনবান্ধব চেনা উইকেটে ক্যারিবীয় বোলিং আক্রমণ সামলে প্রথম ইনিংসেই কাক্সিক্ষত ৪৩ রান তুলে নিয়ে ৭ হাজার রানের ক্লাবে ঢুকে পড়ার জন্য প্রস্তুত অভিজ্ঞ এই সৈনিক। পুরো দেশ এখন তাঁর ব্যাটে সেই ঐতিহাসিক ক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে।


