ময়মনসিংহের ভালুকায় চুল কাটার বাকি পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্র ঋষি (৪৩) নামের এক সেলুন ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার নোমান কম্পোজিট মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট প্রাঙ্গণে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত রবীন্দ্র ঋষি ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার উত্তরপাড়া এলাকার রঞ্জিত ঋষির ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভালুকার জামিরদিয়া তরিফ মুন্সী মোড় এলাকায় কাশেম মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকতেন এবং স্থানীয় নোমান কম্পোজিট মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে সেলুন ব্যবসা পরিচালনা করে সংসার চালাতেন। এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত যুবকের নাম সাদ্দাম হোসেন (২২), যিনি জামিরদিয়া এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন সরাসরি রবীন্দ্র ঋষির সেলুনে ঢুকে তাঁর ওপর আচমকা হামলা চালায় এবং ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। প্রথম দফার রক্তক্ষয়ী হামলা থেকে বাঁচতে রবীন্দ্র রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে গিয়ে অভিযুক্ত সাদ্দামের বাবার দোকানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সেখানেও সাদ্দাম তাঁর পিছু ধাওয়া করে পুনরায় হামলা চালায়। জীবন বাঁচাতে রবীন্দ্র পাশের একটি বাড়ির উঠানে দৌড়ে গেলে সাদ্দাম তাঁকে মাটিতে ফেলে নির্মমভাবে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। প্রচণ্ড আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই রবীন্দ্র ঋষির করুণ মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবার থেকে উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য ও পুরোনো বিরোধের কথা। নিহতের স্ত্রী সুচিত্রা জানান, সাদ্দাম মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই রবীন্দ্রের কাছে টাকা দাবি করতেন। এ ছাড়া তাঁর সেলুনে এসে নিয়মিত চুল কাটিয়ে টাকা না দিয়ে চলে যেতেন। সম্প্রতি বাকি টাকা পরিশোধ না করা এবং পরবর্তীতে সাদ্দামকে সেলুনে চুল কাটতে অস্বীকার করায় দুইজনের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই সময় সাদ্দাম তাঁর স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছিলেন।
এর পাশাপাশি পারিবারিক আরও একটি পুরোনো শত্রুতার কথা উল্লেখ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। প্রায় তিন মাস আগে রবীন্দ্রের মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার অপরাধে সাদ্দামের বিরুদ্ধে স্থানীয় মাতব্বরদের উপস্থিতিতে এক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্বজনদের ধারণা, সেই পুরনো সালিশের আক্রোশ এবং সেলুনের বাকি টাকার জের ধরে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরিটি উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


