খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৪৪ পিএম
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় দোকানে বসে জুয়া খেলার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্যসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার আসমা ইউনিয়নের হরিয়াতলা গ্রামের পাকারাস্তা সংলগ্ন মেম্বার মার্কেটের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বারহাট্টা থানার একটি দল রাতে মেম্বার মার্কেটের সাব্বিরের দোকানে অভিযান চালায়। এ সময় সেখানে জুয়ার আসর বসেছে বলে পুলিশ দেখতে পায়। অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আসমা ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্যও রয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হরিয়াতলা গ্রামের নবীনেওয়াজের ছেলে ও আসমা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য লিটন মিয়া (৫০), একই এলাকার আলতাফুর রহমান আলতু মেম্বারের ছেলে সাব্বির আহমেদ (৩২), উপেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বশর্মার ছেলে হিরেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বশর্মা (৪২), ছয়গাঁও গ্রামের সামছুদ্দিনের ছেলে ও আসমা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এমদাদুল হক হীরা (৪০) এবং চানফর আলীর ছেলে একদিল মিয়া (৩৮)।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হরিয়াতলা গ্রামের পাকারাস্তা সংলগ্ন মেম্বার মার্কেটের ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জুয়া খেলার অভিযোগ ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতেও সাব্বিরের দোকানে জুয়ার আসর বসে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চম্পক দাম বলেন, জুয়া ও মাদকসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, বারহাট্টা থানায় জুয়া খেলা সংক্রান্ত এটি প্রথম মামলা। স্থানীয় পর্যায়ে জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপরাধ ও সামাজিক সমস্যা তৈরি হতে পারে—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে নজরদারি বাড়িয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকায় নয়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জুয়া, মাদক ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও অপরাধের তথ্য পেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। আদালতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
মন্তব্য