রাজশাহী নগরের মালোপাড়া এলাকায় রাস্তায় রিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট যানজটের জেরে মারধরের শিকার হয়ে পলাশ (৪৫) নামের এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছে নিহতের পরিবার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পলাশ নগরের রাজারহাতা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। একই সঙ্গে তিনি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছিলেন। বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করায় রক্তচাপ মাপার জন্য তিনি মালোপাড়া এলাকার একটি ওষুধের দোকানে যান।
রক্তচাপ মাপার জন্য দোকানে যাওয়ার সময় তিনি তাঁর রিকশাটি রাস্তার পাশে রেখে যান। এতে ওই এলাকায় কিছুটা যানজট তৈরি হয়। এ সময় পাশের একটি হোমিওপ্যাথিক ওষুধের দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা তাঁকে রিকশাটি সরিয়ে নিতে বলেন। এ নিয়ে পলাশের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়। তবে মারধরের পর পলাশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাশের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম জানান, রাস্তায় রিকশা রাখার কারণে যানজট সৃষ্টি হওয়াকে কেন্দ্র করে পলাশের সঙ্গে কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাছুমা মুস্তারী জানান, ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রাত প্রায় তিনটার দিকে থানায় এজাহার দেওয়া হয়। এজাহারে কিছু সংশোধনের প্রয়োজন থাকায় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় লাগে। পরে পলাশকে মারধরের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে।
পলাশের মৃত্যু ঘিরে এলাকায় শোকের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হবে। পুলিশও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এ ঘটনায় সামান্য যানজট বা রাস্তা ব্যবহারের বিরোধ কীভাবে দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিতে পারে, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অসুস্থ অবস্থায় থাকা একজন ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধের সময় পরিস্থিতি শান্ত রাখার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, মারধরের মাত্রা এবং পলাশের মৃত্যুর সঙ্গে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।



