লালমনিরহাটের আদিতমারীতে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসার প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। টানা ২০ দিন চিকিৎসার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তাঁর মৃত্যু হয়।
আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এলাকায় মাদক, অনলাইন জুয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, আদিতমারী এলাকায় অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন আরিফুল। স্থানীয়ভাবে জুয়াড়ি চক্রের মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত রহিদুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীদের এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য তিনি সতর্ক করেছিলেন। বিষয়টি বন্ধ না হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর কথাও বলেছিলেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ আগস্ট বিকেলে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিজ বাড়ির কাছেই আরিফুলের ওপর হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। দীর্ঘ ২০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আরিফুলের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় সূত্র ও আদিতমারী থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মামলার প্রধান আসামিসহ অন্য আসামিদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে জুয়া ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষক আরিফুল ইসলামের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


