খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক কিশোরকে টর্চের আলো চোখে পড়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম মোসাব্বির হোসেন (১৭)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে গতকাল শনিবার ঈদের রাত বড়নগর গ্রামে।
মোসাব্বির হোসেন নাসিরনগর উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়শির গ্রামের আবু মিয়ার ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, সে বাবাকে নৌকা চালানোর কাজে সহায়তা করত। মর্মান্তিক ঘটনার সময় সে বন্ধুদের সঙ্গে গান শোনার সময় ব্যস্ত ছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গুজিয়াখাইল গ্রামের সরদার বাড়ি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়নগর গ্রামের আফতাব মিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাবশালী সম্পর্ক রয়েছে। এই দুই গোষ্ঠীর কিশোরদের মধ্যে টর্চের আলো ফেলাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মোসাব্বিরের সঙ্গে কথা কাটাকাটির পর আফতাব মিয়ার অনুসারীরা তাকে কুপিয়ে মেঘনা নদীর পাড়ে ফেলে দেয়। স্থানীয়রা রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
চাতলপাড় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঈদের রাতে মোসাব্বির ও তার বন্ধুরা গান শুনছিল। টর্চের আলো অন্য কিশোরদের চোখে পড়লে কথাকাটাকাটির সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে ছুরিকাঘাত ও কোপের ঘটনায় মোসাব্বির নিহত হয়।”
নাসিরনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কৃষ্ণ লাল ঘোষ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
নিচের টেবিলে ঘটনায় জড়িত এলাকা, নিহত ও সময়ের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| এলাকা | নিহতের নাম | বয়স | গোষ্ঠী | ঘটনার সময় | উদ্ধার ও হাসপাতালে নেওয়া |
|---|---|---|---|---|---|
| বড়নগর, নাসিরনগর | মোসাব্বির হোসেন | ১৭ | আফতাব মিয়া গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধী | ঈদের রাত | রাত ১০:৩০ মিনিটে হাসপাতালে নেয়া হয়, চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন |
| গুজিয়াখাইল, চাতলপাড় | — | — | সরদার বাড়ি | — | — |
এ ঘটনায় পুরো এলাকা শোকস্তব্ধ। স্থানীয়রা এবং পুলিশ নিহতের পরিবারকে মানসিক সমর্থন দিচ্ছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য তৎপর রয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় সমাজে নিরাপত্তা ও কিশোরদের মধ্যে সহিংসতা কমানোর জন্য নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।