খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে মাঘ ১৪৩২ | ২২ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ঢাকা শহরের সাতটি সরকারি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ স্থাপনের প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
উপদেষ্টা পরিষদ জানায়, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য হলো ঢাকা শহরের ঐতিহ্যবাহী সাত কলেজকে একই একাডেমিক কাঠামোর আওতায় এনে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করা। খসড়া অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে, কলেজগুলো ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাঠদান চালাবে এবং নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক কার্যক্রমও থাকবে।
প্রস্তাবিত সাত কলেজের তালিকা নিম্নরূপ:
| নং | কলেজের নাম | অবস্থান | বর্তমান অধিভুক্তি | প্রস্তাবিত অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| 1 | ঢাকা কলেজ | ঢাকা | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | সংযুক্ত কলেজ |
| 2 | ইডেন মহিলা কলেজ | ঢাকা | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | সংযুক্ত কলেজ |
| 3 | বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ | ঢাকা | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | সংযুক্ত কলেজ |
| 4 | শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ | ঢাকা | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | সংযুক্ত কলেজ |
| 5 | কবি নজরুল সরকারি কলেজ | ঢাকা | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | সংযুক্ত কলেজ |
| 6 | সরকারি বাঙলা কলেজ | ঢাকা | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | সংযুক্ত কলেজ |
| 7 | সরকারি তিতুমীর কলেজ | ঢাকা | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | সংযুক্ত কলেজ |
নতুন খসড়ায় প্রতিটি কলেজকে আলাদা স্কুলভিত্তিক কাঠামো অনুসরণ করার পূর্বের পরিকল্পনা বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো থাকবে, যার মধ্যে আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্রপতি আচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন এবং উপাচার্য সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন ও চারুকলা সংক্রান্ত পৃথক স্কুল থাকবে। ‘সংযুক্ত কলেজগুলো’তে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তি হবেন।
নতুন অধ্যাদেশে আবাসিক হল, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিধান রাখা হয়েছে। স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ক্যাম্পাস না তৈরি হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা বিশেষ চাহিদার ভিত্তিতে বৈষম্য ছাড়া সকল শিক্ষার্থীর ভর্তি ও ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ মনে করছে, এই অধ্যাদেশ সাত কলেজের দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে সহায়ক হবে এবং রাজধানীতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সমন্বিত, আধুনিক ও গবেষণাসমৃদ্ধ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলবে। ইউজিসি নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী শিক্ষা, গবেষণা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করবে।
এই সাত কলেজকে ঘিরে জটিলতা নতুন নয়; ২০১৭ সালে প্রস্তুতি ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে গত বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করার ঘোষণা আসে এবং এরপর সরকার নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের উদ্যোগ নেয়।