খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ১:১১ পিএম
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনকে ‘অভ্যুত্থান’ বলতে নারাজ বিশিষ্ট লেখক ও কবি ফরহাদ মাজহার। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সে সময়ের ঘটনাপ্রবাহকে আন্দোলন হিসেবে দেখলেও বাস্তবে এর পেছনে ভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক ভূমিকা ছিল।
অনলাইনভিত্তিক নিউ মিডিয়া *‘আলাপ’*-এর একটি পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফরহাদ মাজহার বলেন, আন্দোলনের সময় সমন্বয়কদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২ আগস্ট রাতেও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়।
মাজহারের দাবি, ওই কথোপকথনে নাহিদ ইসলাম তাকে জানান যে, আন্দোলনে ‘কম্প্রোমাইজ’ করতে হচ্ছে এবং শেখ হাসিনার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার জন্য তাদের ওপর চাপ ছিল। এ প্রসঙ্গে ফরহাদ মাজহার বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগ হলেও আগের রাষ্ট্রীয় কাঠামো বহাল রাখার পরিকল্পনা ছিল।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও দাবি করেন, নাহিদ ইসলামসহ কয়েকজন সমন্বয়ক সে সময় মার্কিন দূতাবাসের একটি ‘সেইফ হাউজে’ অবস্থান করছিলেন। তার মতে, আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিশ্চিত করতে চেয়েছিল এবং এতে সফল হয়েছে।
ফরহাদ মাজহার আরও বলেন, আন্দোলনের সময় নাহিদ ইসলাম যখন গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তখন হাসপাতালের সামনে সার্বক্ষণিক একটি গাড়ি রাখা হয়েছিল, যা তার দাবি অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সেইফ হাউজের অংশ ছিল।
পডকাস্টের এক পর্যায়ে উপস্থাপক জানতে চান, তাহলে কি আন্দোলনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন ও পরিকল্পনায় পরিচালিত হয়েছিল? জবাবে ফরহাদ মাজহার বলেন, “শোনা যায় কী কথা? তারা তো প্রথম থেকেই ঘোষণা দিয়েই সম্পৃক্ত ছিল।”
এ সময় তিনি ২০২৩ সালে গণঅধিকার পরিষদের একটি আলোচনা সভায় দেওয়া নিজের বক্তব্যেরও উল্লেখ করেন। তার দাবি, সে সময় তিনি বলেছিলেন, “আমাদের আন্দোলন করতে হবে না। শেখ হাসিনা সরকারকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই সরিয়ে দেবে। সেটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে না।”
মন্তব্য