খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই আগস্ট ২০২৬, ৭:১৬ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, সরকার যদি তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় এবং দেশে ফেরার অনুমতি প্রদান করে, তাহলে তিনি দেশে ফিরে নিজের বিরুদ্ধে থাকা সব আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরা সম্ভব না হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালে ক্ষমতা হারিয়ে শেখ হাসিনা ভারত চলে যান। এরপর দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে না এলেও সম্প্রতি তিনি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন সাকিব আল হাসানও। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, দেশে ফিরতে পারলে নিজের বিরুদ্ধে আনা হত্যা মামলাসহ সব অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে তার কোনো আপত্তি নেই। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ফেরার প্রসঙ্গে সাকিব একাধিকবার দ্রুত ফিরে আসার আশা প্রকাশ করেছিলেন। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেন, তার প্রথম পছন্দ যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরা। তবে যদি বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব না হয়, তাহলে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে শেখ হাসিনা যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেই সময় তার সঙ্গে ফেরার চেষ্টা করবেন।
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনাকে “অধিনায়ক” হিসেবে উল্লেখ করে সাকিব বলেন, “অধিনায়ক যা বলেন, আমরা তাই অনুসরণ করি। আমি মনে করি, তারা ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন, আর আমরা তাদের নির্দেশনা মেনে চলব।” তার এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে।
বর্তমানে শ্রীলঙ্কার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কারণে সাকিব দেশটির অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই টেলিফোনে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকার যদি তাকে দেশে ফেরার অনুমতি দেয় এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাহলে আদালতে হাজির হওয়া থেকে শুরু করে আইনি প্রক্রিয়ার সব ধাপ অনুসরণ করতে তিনি প্রস্তুত।
সাক্ষাৎকারে সাকিব আরও বলেন, “আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।” গত দুই বছরে বিদেশে অবস্থান নিয়ে এটিই তার সবচেয়ে বিস্তারিত প্রকাশ্য বক্তব্য বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের বাইরে অবস্থান করা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তাদের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা হয়েছে। সেই বাস্তবতার মধ্যেই সাকিবের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে হত্যা মামলাও রয়েছে। এসব মামলার কারণে তার দেশে ফেরা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চিত হয়ে আছে।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনাও রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে তিনি এবং আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারা আগামী ডিসেম্বরে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। সাকিবের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই ঘোষণার সঙ্গে মিল রেখেই এসেছে।
বাংলাদেশের অন্যতম সফল এই অলরাউন্ডারের বক্তব্য এখন কেবল ক্রিকেট অঙ্গনেই নয়, দেশের রাজনৈতিক পরিসরেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও সেটি বাস্তবে সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করবে সরকারের সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং চলমান মামলাগুলোর আইনি অগ্রগতির ওপর।
মন্তব্য