ঝালকাঠিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৩৪০, হাসপাতালে ৪২ জন

ঝালকাঠিতে চলতি বছরের শুরু থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৩৪০ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ২৯৮ জন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর তথ্যও জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সোমবার পর্যন্ত জেলার চারটি সরকারি হাসপাতালে ৪২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঝালকাঠি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত নিয়মিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ১ জানুয়ারি থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ও চিকিৎসার সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রোগী ভর্তির দিক থেকে জেলার চার হাসপাতালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে। চলতি বছরে সেখানে ১ হাজার ৬২৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৬১৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ওই হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে সদর হাসপাতালে ১৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন।

রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। সেখানে এ পর্যন্ত ৩৯০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে ৩৭৭ জন বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ১৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কাঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ পর্যন্ত ১৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫৮ জন চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে সেখানে পাঁচজন রোগী চিকিৎসাধীন।

অন্যদিকে, নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন ১৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী। তাঁদের মধ্যে ১৪৮ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলার চারটি সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩ জন। তবে এই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৪২ জন রোগীর মধ্যে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে রয়েছেন ১৩ জন, রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন, নলছিটিতে ১১ জন এবং কাঠালিয়ায় পাঁচজন।

হাসপাতালভিত্তিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে মোট রোগী ভর্তির সংখ্যা জেলার অন্য তিন উপজেলার তুলনায় অনেক বেশি। তবে চারটি হাসপাতালেই এখনো ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে—এমনটা বলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়া অব্যাহত থাকায় মশাবাহিত এই রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. মো. হুমায়ুন কবির ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাড়ির আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে। তাই নিয়মিতভাবে বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের স্থান পরিষ্কার রাখা এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি।

তিনি আরও জানান, জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করা হলে জটিলতা এড়ানোর সুযোগ বাড়ে।

চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে জেলার চার সরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি অব্যাহত থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী স্থানগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই ঝুঁকি কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।