কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে দুই ভারতীয় নাগরিক আহত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত দুজনের শরীরে ছররা গুলির একাধিক ক্ষত রয়েছে। তাদের একজনের পেটে এবং অন্যজনের হাতে গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
আহতরা হলেন ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ সালমারা-মাঙ্কাচর জেলার সুখচর থানার বড়বালু গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৩৫) ও খাজা আব্দুল আলীম (৩৯)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুজনই রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুরোনো ভবনের চতুর্থ তলায় ১৫ নম্বর সার্জারি পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। ইসমাইলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ছররা গুলির ক্ষত রয়েছে। তার ডান হাত থেকে রক্তক্ষরণ হওয়ায় চিকিৎসকেরা সেখানে ব্যান্ডেজ করেছেন এবং তাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে, খাজা আব্দুল আলীমের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর। তিনি কথা বলতে পারছেন না। তার শরীরেও ছররা গুলির একাধিক ক্ষত রয়েছে এবং ডান পেটে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় সেখানে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে।
চিকিৎসাধীন ইসমাইল হোসেনের ভাষ্য, গত ৪ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে ভারতের দক্ষিণ সালমারা-মাঙ্কাচর জেলার নারায়ণপুর স্থলবন্দরসংলগ্ন চরে তারা নিজেদের গরু দেখাশোনা করছিলেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা সেখানে এসে তাদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে গালাগাল করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইসমাইলের দাবি, তারা বিএসএফ সদস্যদের নিজেদের ভারতীয় নাগরিক পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি গরুগুলো তাদের নিজেদের এবং তারা গরু পাচারের সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএসএফ সদস্যরা তাদের বক্তব্য না শুনে দুই নদী পার করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান এবং গুলি চালান।
ইসমাইল বলেন, গুলির ঘটনায় তিনি প্রায় এক ঘণ্টা অচেতন ছিলেন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ছেড়ে দেয় বলে তার দাবি। জ্ঞান ফেরার পর নদীতে মাছ ধরতে থাকা দুই বাংলাদেশির কাছে তারা সাহায্য চান। ওই দুই ব্যক্তি আহতদের প্রথমে যাত্রাপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা না পাওয়ায় রাত ৯টার দিকে তাদের রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরে ওই দুই বাংলাদেশি সেখান থেকে চলে গেলে পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে পুলিশ আহত দুজনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
ঘটনাটি উলিপুর সীমান্ত এলাকায় ঘটেছে বলে জানা গেলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি। কুড়িগ্রাম বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, আহত দুই ব্যক্তি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তারা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বিএসএফের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে গুলিবর্ষণের পরিস্থিতি, দুই ব্যক্তির বাংলাদেশে প্রবেশের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সীমান্তের কোন অংশে ঘটনাটি ঘটেছে—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সীমান্তে দুই দেশের নাগরিকদের চলাচল ও গবাদিপশু ঘিরে উত্তেজনা নতুন নয়। এ ধরনের ঘটনায় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও তথ্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।


