খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই আগস্ট ২০২৬, ৯:২৯ এএম
ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও কঠোর নীতিমালার মাঝেও বিশ্বজুড়ে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ (এমঅ্যান্ডএ) লেনদেনে নতুন করে আস্থা ফিরছে। সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনি ঝুঁকি এড়াতে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোতে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অ্যান্ড ওয়ারেন্টি’ (আরঅ্যান্ডডব্লিউ) বা ‘ওয়ারেন্টি অ্যান্ড ইনডেমনিটি’ (ডব্লিউঅ্যান্ডআই) বীমার ব্যবহার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনি পরিষেবা সংস্থা ‘নর্টন রোজ ফুলব্রাইট’ এবং তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘মার্জারমার্কেট’-এর যৌথ গবেষণা প্রতিবেদন “গ্লোবাল এমঅ্যান্ডএ ট্রেন্ডস অ্যান্ড রিস্কস”-এর চতুর্থ সংস্করণে এই গুরুত্বপূর্ণ চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৮ শতাংশ পেশাদার ডিলমেকার মনে করেন ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে আরঅ্যান্ডডব্লিউ বা ডব্লিউঅ্যান্ডআই বীমার ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে, যার মধ্যে ৩২ শতাংশ একটি বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছেন। চুক্তি বীমার এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
চুক্তি সম্পাদন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাধা
এমঅ্যান্ডএ লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল্যের পার্থক্য বা ‘ভ্যালুয়েশন গ্যাপ’ এখন সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটিই প্রথমবারের মতো চুক্তি সম্পাদকদের শীর্ষ উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
| বাজার সূচক ও পরিসংখ্যান (Metrics & Forecasts) | হারের অনুপাত (Percentage / Share) |
| ডিল ইন্স্যুরেন্সের (R&W/W&I) ব্যবহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা | ৫৮% |
| ডিল ইন্স্যুরেন্স ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস | ৩২% |
| ২০২৬ সালে বৈশ্বিক এমঅ্যান্ডএ লেনদেন বৃদ্ধির আশা | ৫২% |
| চুক্তির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধির প্রত্যাশা | ২০% |
| বিগত বছরের জরিপে লেনদেন বৃদ্ধির প্রত্যাশা (২০২৫) | ৩৮% |
| সীমান্ত পারাপার (Cross-border) চুক্তিতে শীর্ষ খাত: প্রযুক্তি | ৬৭% |
| কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (AI) সেরা সুযোগ মনে করেন উত্তরদাতা | ৭৮% |
| এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান অর্জনে আগ্রহী উত্তরদাতা | ২৪% |
| প্রাইভেট ইকুইটি অংশগ্রহণকারীদের এআই প্রযুক্তি সংস্থায় আগ্রহ | ৩৮% |
| সরাসরি এআই (Pure-play AI) কোম্পানি অর্জনে আগ্রহী | ১৪% |
| চুক্তি সম্পাদনে সবচেয়ে বড় বাধা: ভ্যালুয়েশন গ্যাপ | ৪৮% |
| ডিল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রাইভেট ইকুইটির অব্যবহৃত ফান্ড (Dry Powder) | ৪৮% |
| অর্থায়নে প্রধান উৎস হিসেবে প্রাইভেট ক্রেডিট (Private Credit) | ৮৬% |
| অর্থায়নের বৈশ্বিক শর্তাবলী সহজ হওয়ার প্রত্যাশা | ৫০% |
| মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন বৃদ্ধির পূর্বাভাস | ৪৮% |
| ইউরোপের বাজারে চুক্তি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস | ৪৩% |
| কানাডার বাজারে লেনদেন বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রত্যাশা | ৫৭% |
| লেনদেনের দ্বিতীয় শীর্ষ বাধা: ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা | ৩৯% |
| লেনদেনের তৃতীয় শীর্ষ বাধা: অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা | ৩৭% |
| প্রধান নিয়ন্ত্রক বাধা: প্রতিযোগিতা বা অ্যান্টিট্রাস্ট আইন | ৩৫% |
নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধের মধ্যে একচেটিয়াতাবিরোধী আইন বা ‘অ্যান্টিট্রাস্ট’ সংক্রান্ত নীতিকে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতিবিরোধী নীতি (৩২%) এবং বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) সংক্রান্ত নিয়মাবলী (২৬%) লেনদেনের পথে অন্যতম অন্তরায়।
প্রযুক্তি ও এআই: আন্তর্জাতিক লেনদেনের মূল চালিকাশক্তি
সীমান্ত পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যবসার প্রসারে সবচেয়ে পছন্দের খাত হিসেবে অবস্থান সুসংহত করেছে প্রযুক্তি। ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা এটিকে বিস্তৃতির সেরা মাধ্যম বলেছেন, যা শিল্পপণ্য উৎপাদন ও শক্তি খাতকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।
প্রযুক্তির ভেতরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিনিয়োগকারীদের প্রধান আকর্ষণ। ৭৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন চলতি বছর এআই খাত ডিলমেকিংয়ে সবচেয়ে চমৎকার সুযোগ তৈরি করছে—যা ২০২৫ সালে ছিল ৬০ শতাংশ। উত্তরদাতাদের ২৪ শতাংশ এমন প্রতিষ্ঠান অর্জনে আগ্রহী যা বড় পরিসরে এআই ব্যবহার করে। তবে প্রাইভেট ইকুইটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এই হার ৩৮ শতাংশ। এছাড়া ১৪ শতাংশ উত্তরদাতা শুধুই এআই নিয়ে কাজ করা ‘পিওর-প্লে’ সংস্থায় নজর রাখছেন।
অর্থায়ন এবং বৈশ্বিক বাজারের দৃষ্টিভঙ্গি
এমঅ্যান্ডএ বাজারে লেনদেন সচল রাখতে ভূমিকা রাখছে প্রাইভেট ইকুইটির জমে থাকা ফান্ড বা ‘ড্রাই পাউডার’ (৪৮%), শিল্প একত্রীকরণ (৪৫%) এবং অলাভজনক সম্পদ বিক্রি (৩৭%)। অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রথাগত উৎসের বদলে ‘প্রাইভেট ক্রেডিট’ গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে, যা সমর্থন করেছেন ৮৬ শতাংশ উত্তরদাতা।
ভৌগোলিক বিবেচনায় উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ ২০২৬ সালে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে। একক দেশ হিসেবে কানাডায় ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা ডিল বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছেন। একইভাবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলেও সাপ্লাই চেইনের নতুন সমীকরণ ও সম্পদ পুনর্বিন্যাসের ফলে বিনিয়োগ আস্থায় ফিরছে।
সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যায় নর্টন রোজ ফুলব্রাইট-এর গ্লোবাল হেড অব কর্পোরেট, এমঅ্যান্ডএ অ্যান্ড সিকিউরিটিজ রাজ কারিয়া উল্লেখ করেন, “সাম্প্রতিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ডিলমেকাররা সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত লেনদেনে ফিরে আসছেন। ভূ-রাজনৈতিক ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও অর্থায়নের নতুন রূপরেখা এবং এআই-এর মতো প্রযুক্তি খাতে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক এমঅ্যান্ডএ খাত শক্তিশালী ভিত তৈরি করছে।”
মন্তব্য