খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৫, ২:২৭ পিএম
দেশের বাজারে টমেটো ও গাজরের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। প্রতি বছর জুন মাস থেকে এই দুটি সবজির দাম বাড়লেও এবার তা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা পর্যন্ত, আর গাজরের দাম উঠেছে ১৬০ টাকায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় সরবরাহ কমে গেছে, ফলে আমদানি করা সবজির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
ব্যবসায়ীদের মতে, টমেটো ও গাজরের চাহিদা সারা বছর থাকলেও, ভরা মৌসুমে এর দাম অনেক কম থাকে। সাধারণত ১০-২০ টাকায় কেজিপ্রতি বিক্রি হয়। কিন্তু মৌসুম শেষে সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়তে শুরু করে। এবারও সেই ধারা বজায় রয়েছে। বর্তমানে বাজারে যে টমেটো পাওয়া যাচ্ছে, তার অধিকাংশই ভারত থেকে আমদানি করা। কিছু টমেটো কোল্ড স্টোরেজ থেকেও আসছে, তবে সেগুলোর মান তুলনামূলকভাবে খারাপ হওয়ায় দাম কিছুটা কম। অন্যদিকে, আমদানি করা টমেটো টাটকা হওয়ায় সেগুলোর দাম বেশি।
গাজরের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বেশিরভাগ গাজর চীন থেকে আমদানি করা, যা দেখতে সুন্দর ও টাটকা। এই গাজর কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, কিছু কোল্ড স্টোরেজের গাজর পাওয়া গেলেও সেগুলোর দাম তুলনামূলক কম, ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
অন্যান্য সবজির বাজারও চড়া
টমেটো ও গাজরের পাশাপাশি অন্যান্য সবজির দামও আকাশছোঁয়া। ঢাকার বিভিন্ন বাজারে পেঁপে সবচেয়ে কম দামে (কেজি ২০ টাকা) বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির মধ্যে পটল, ঝিঙা, বেগুন, করলা, ও বরবটি ৭০-৮০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দামও অত্যন্ত চড়া, প্রতি কেজি ২৪০-২৮০ টাকা।
অনেক ক্রেতা এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফাকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, যখন টমেটো ও গাজরের দাম কম থাকে, তখন সেগুলো কোল্ড স্টোরেজে মজুত করে রাখা হয় এবং পরে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হয়। একজন ক্রেতা বলেন, “১০-২০ টাকা কেজি দরে কেনা পণ্য ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রি করা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।”
অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে খেতের ক্ষতি হয়েছে এবং সামনে সবজির দাম আরও বাড়তে পারে। তারা আরও জানান, গত বছর টমেটোর কেজি ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল, তাই এবারও দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন
মন্তব্য