খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জনের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা ভিড় করেন এবং এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ ছিলেন নওগাঁ জেলার বাসিন্দা। মোট ১৫ জনের মধ্যে নওগাঁর ১০ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২ জন এবং রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও নাটোর জেলার একজন করে বাসিন্দা রয়েছেন। নিহতরা মূলত পেশায় হকার বা ফেরিওয়ালা ছিলেন। তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে চুল এবং ভাঙারি মোবাইল কেনাবেচার কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ নিহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করেছে। নিহতরা হলেন নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার সাগর মিয়া (২০), রবিউল ইসলাম (২৫), মো. বারিক (২১), বাদশা (৩২), পাকুরিয়া গ্রামের গিয়াস (২০) ও মাইনুল (২৮), রাজেন্দ্রবাটি এলাকার ইয়াকুব (২০) ও তারেক (২০), হোসেনপুর এলাকার মাইনুল (৩৫) এবং রামগ্রা এলাকার সুজন (৩৫)। এছাড়া রাজশাহীর তানোর উপজেলার ইসমাইল হোসেন (১৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নজরুল (৬০) ও সদর উপজেলার মামুন (৪৫), কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার হাসান আলী এবং নাটোরের মোহাম্মদ আলম মোল্লা নিহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার ভোরে ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনা মহাসড়কের কালিহাতী এলাকায়। পুলিশ জানায়, উত্তরাঞ্চলগামী রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাকের ভেতরে থাকা যাত্রীরা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
যমুনা সেতু পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত ট্রাকের চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতিও চলছে।
দুর্ঘটনার পর থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পরে মরদেহগুলো টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় এবং সেখানেই পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনা মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবে পরিচিত। এই মহাসড়কে প্রায়ই ভারী যানবাহন চলাচল করে থাকে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারগুলো মরদেহ গ্রহণ করে নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে গেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।