জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণার ফলাফল গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে নমুনার সংখ্যা সীমিত হওয়ায় শুধু এই গবেষণার ভিত্তিতে টিকার মান বা কার্যকারিতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। কেন কিছু শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি, তা জানতে আরও বিস্তৃত গবেষণা ও অনুসন্ধান জরুরি।
৩০৯ শিশুর নমুনায় উদ্বেগজনক চিত্র
জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পর গত সেপ্টেম্বর মাসে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মুন্সিগঞ্জ জেলার ছয়টি উপশহর ও গ্রামীণ এলাকার ৯ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩০৯ শিশুকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শিশুরা টিকা পেয়েছিল কি না, তা টিকাকার্ড পরীক্ষা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হন গবেষকেরা। পরে শিশুদের রক্তের নমুনা আইইডিসিআরের পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০৯ শিশুর মধ্যে ২০৩ জনের শরীরে হামের অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, তাঁদের ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশের শরীরে শনাক্তযোগ্য রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ছিল। অন্যদিকে, ২১ শিশুর বা ৬ দশমিক ৮ শতাংশের অ্যান্টিবডির মাত্রা ছিল সীমান্তবর্তী পর্যায়ে। তাঁদের শরীরে পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া কঠিন।
বাকি ৮৫ শিশুর শরীরে কোনো অ্যান্টিবডি শনাক্ত হয়নি। মোট পরীক্ষাধীন শিশুর ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ এই দলে পড়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের এক বিজ্ঞানী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী মাত্রার অ্যান্টিবডি থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে তাঁদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়েছে, আবার একেবারেই তৈরি হয়নি—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ৯ থেকে ১৪ মাস বয়সী শিশুদের তুলনায় ১৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে অ্যান্টিবডি পাওয়ার প্রবণতা বেশি। তবে এই পার্থক্যের পেছনে ঠিক কোন কারণগুলো কাজ করেছে, তা নির্ধারণের জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন।
গবেষণাটিতে নেতৃত্ব দিয়েছে আইইডিসিআর। এতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, ইস্টার্ন মেডিটেরানিয়ান পাবলিক হেলথ নেটওয়ার্ক এবং ঢাকা হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের ১২ জন গবেষক ও কর্মকর্তা অংশ নেন।
ক্যাম্পেইনের পরও থামেনি সংক্রমণ
চলতি বছরের মার্চে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ২০ এপ্রিল দেশজুড়ে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। ক্যাম্পেইনটি শেষ হয় ২০ মে।
ক্যাম্পেইন শুরুর আগে স্বাস্থ্য বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছিলেন, কর্মসূচি শেষ হওয়ার তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার কয়েক মাস পরও সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। এতে শিশুদের শরীরে টিকা কতটা কার্যকর সুরক্ষা তৈরি করছে, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো টিকা নেওয়ার পরও প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরে একই মাত্রায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয় না। টিকা দেওয়ার সময় শিশুর বয়স, ডোজের সংখ্যা, ব্যক্তির নিজস্ব রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা এবং পুষ্টিগত অবস্থা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই টিকা নেওয়ার পরও কিছু শিশুর শরীরে অ্যান্টিবডি না পাওয়া গেলেই টিকাটি সামগ্রিকভাবে অকার্যকর—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
তবে সংক্রমণ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং গবেষণায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশুর শরীরে অ্যান্টিবডি না পাওয়ার বিষয়টি টিকাদানব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায় পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
শিশুর বয়সেও প্রভাবিত হয় টিকার কার্যকারিতা
টিকাবিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, শিশুর বয়সের সঙ্গে হামের টিকার পর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে ওঠার সম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের দেওয়া সাধারণ হিসাব অনুযায়ী, ছয় মাস বয়সে টিকা দিলে প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে প্রায় ৫০ জনের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হতে পারে। নয় মাস বয়সে এই হার প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং ১২ মাস বয়সে প্রায় ৯০ শতাংশ হতে পারে।
এগুলো বিশেষজ্ঞদের উল্লেখ করা সাধারণ অনুমান; আইইডিসিআরের গবেষণায় পাওয়া নির্দিষ্ট ফলাফল নয়। তবু বয়সভেদে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরির পার্থক্য কেন দেখা যায়, তা বোঝার ক্ষেত্রে এ তথ্য প্রাসঙ্গিক।
গবেষকেরা বলছেন, এক ডোজের তুলনায় দুই বা তিন ডোজ টিকা নিলে সাধারণত বেশি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হতে পারে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে কোন বয়সে কোন ডোজ দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে তারা প্রয়োজনীয় ডোজ পেয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। কোনো জনগোষ্ঠীতে পর্যাপ্তসংখ্যক মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা না থাকলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই শুধু টিকা দেওয়ার সংখ্যা নয়, টিকার আওতায় আসা শিশুদের মধ্যে কতজনের কার্যকর সুরক্ষা তৈরি হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
টিকার সংরক্ষণ ও পরিবহন নিয়ে প্রশ্ন
টিকার কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে সংরক্ষণ ও পরিবহনের সময় নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখা অন্যতম। টিকা উৎপাদনের পর থেকে শিশুকে দেওয়ার আগপর্যন্ত বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছায়। এই পুরো সময়ে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা বজায় রাখতে হয়। কোনো পর্যায়ে তাপমাত্রার ব্যত্যয় ঘটলে কিছু টিকার কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
টিকাবিশেষজ্ঞ তাজুল এ বারি বলেন, টিকার কার্যকারিতা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। দীর্ঘ সরবরাহব্যবস্থার কোনো পর্যায়ে তাপমাত্রার হেরফের হলে টিকার মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তিনি আরও বলেন, শিশু অতিমাত্রায় অপুষ্টিতে ভুগলে তার শরীরে টিকার প্রতিক্রিয়া দুর্বল হতে পারে। টিকা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি না হওয়ার প্রকৃত কারণ জানতে অনুসন্ধান চালানো প্রয়োজন।
টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যবহৃত টিকাগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত হলেও সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখা জরুরি। টিকা অনুমোদিত হওয়া এবং সেটি সংরক্ষণ, পরিবহন ও প্রয়োগের প্রতিটি ধাপে যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা—দুটি আলাদা বিষয়। তাই গবেষণার ফলাফল ব্যাখ্যা করতে হলে টিকার উৎসের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সংরক্ষণ ও প্রয়োগের ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে বর্তমান গবেষণায় টিকার সংরক্ষণ বা পরিবহনে ত্রুটি ছিল কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। এসব বিষয় সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনায় থাকলেও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো একটিকে দায়ী করা যাবে না।
নিয়মিত টিকা থেকে বাদ পড়ছে বহু শিশু
গত ১৪ অক্টোবর রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৭০ জন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ স্বাধীন পর্যালোচনা দল দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ তুলে ধরে। দলটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে প্রতিবছর প্রায় ২০ শতাংশ শিশু নিয়মিত টিকা থেকে বাদ পড়ে।
নিয়মিত টিকাদানের বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। কোনো এলাকায় অনেক শিশু টিকা না পেলে বা প্রয়োজনীয় ডোজ সম্পন্ন না করলে সেখানে রোগের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ওই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শিশুদের কাছে পৌঁছানোর আগপর্যন্ত টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। উৎপাদন থেকে শুরু করে বিমানবন্দর হয়ে পরিবহন ও বিতরণের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে টিকা শিশুর কাছে পৌঁছায়। প্রতিটি পর্যায়ে গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও গ্যাভিসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতাও চান তিনি।
বড় পরিসরে গবেষণা হচ্ছে
আইইডিসিআরের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, টিকার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই, কারণ বিশ্বের বহু দেশে একই টিকা ব্যবহার করা হচ্ছে।
গবেষণাটির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, নমুনার সংখ্যা কম হওয়ায় এর ফলাফল থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। পরিস্থিতি ভালোভাবে বোঝার জন্য আরও বড় গবেষণা প্রয়োজন।
জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এস এম এ সাফি জানিয়েছেন, এ লক্ষ্যে তিন হাজার শিশুর নমুনা নিয়ে একটি বৃহত্তর গবেষণা চলছে। দেশের ৩০টি উপজেলা থেকে প্রতিটি এলাকায় ১০০ শিশুর নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। গবেষণার ফলাফল নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে প্রকাশের কথা রয়েছে।
বড় পরিসরের এই গবেষণায় শিশুদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রবণতা আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যেতে পারে। পাশাপাশি বয়স, টিকার ডোজ, পুষ্টিগত অবস্থা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সঙ্গে রোগ প্রতিরোধক্ষমতার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করার সুযোগ তৈরি হবে।
হামে মৃত্যু ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সংখ্যা বাড়ছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সোমবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩৮৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন মোট ২ লাখ ২২ হাজার ৫৫২ জন। এ বছর হামের উপসর্গ নিয়ে ও নিশ্চিত হামে মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ২৩৩। এর মধ্যে হামের উপসর্গ থাকা অবস্থায় ১ হাজার ১২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১০৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
উপসর্গজনিত মৃত্যু ও পরীক্ষায় নিশ্চিত মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হামের মতো উপসর্গ অন্য রোগেও দেখা দিতে পারে। তাই প্রকৃত পরিস্থিতি নিরূপণে রোগ শনাক্তকরণ ও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
টিকাদানের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ
সরকারের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেছেন, হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের আওতা ৯৫ শতাংশের বেশি করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, নিয়মিত টিকাদানের পাশাপাশি যেসব শিশু আগে টিকা পায়নি বা যাদের সুরক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তাদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদেরও টিকাদানের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় বয়সসীমা একপর্যায়ে ১৮ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি প্রতি চার বছর পরপর জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম নিয়ন্ত্রণে শুধু এককালীন ক্যাম্পেইনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। নিয়মিত টিকাদানব্যবস্থা শক্তিশালী করা, বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করা, টিকা সংরক্ষণ ও পরিবহনের মান বজায় রাখা এবং টিকার পর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে ওঠার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
আইইডিসিআরের গবেষণায় ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ শিশুর শরীরে অ্যান্টিবডি না পাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের হলেও এর কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। বৃহত্তর গবেষণার ফলাফল এবং টিকাদানব্যবস্থার বিস্তারিত পর্যালোচনা থেকেই বোঝা যাবে, সমস্যাটি কতটা বিস্তৃত এবং তা সমাধানে কী ধরনের পদক্ষেপ সবচেয়ে কার্যকর হবে।


