কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির আওতাধীন হোয়াইক্যং চেকপোস্ট ও উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকায় অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা ইয়াবার মধ্যে একটি অভিযানে ১ লাখ ২০ হাজার পিস এবং অন্য অভিযানে ৩ লাখ ৪০ হাজার পিস ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। প্রথম অভিযানে একটি ডাবল কেবিন পিকআপ থেকে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় অভিযানে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করেন বিজিবি সদস্যরা।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
হোয়াইক্যং চেকপোস্টে পিকআপ থেকে ইয়াবা উদ্ধার
বিজিবি জানায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে হোয়াইক্যং বিজিবি চেকপোস্টে একটি ডাবল কেবিন পিকআপ থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িটি মৌলভীবাজার থেকে টেকনাফ হয়ে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। তল্লাশির একপর্যায়ে পিকআপটিতে সন্দেহজনক কিছু থাকার বিষয়টি নজরে আসে বিজিবি সদস্যদের।
পরে গাড়ির পেছনের আসনের কভারের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় একজনকে আটক করা হয়। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটি কীভাবে এবং কোন পথে ইয়াবা বহন করছিল, সে বিষয়ে তদন্তের সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য থেকে ধারণা করা যায়। তবে এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
উলুবনিয়া সীমান্তে অ্যাম্বুশ করে আরও ৩ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা জব্দ
একই রাতে দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় হোয়াইক্যংয়ের উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকায়। রাত ৯টার দিকে পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় বিজিবির একটি টহল দল। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নিয়ে অ্যাম্বুশ পরিচালনা করা হয়। এ সময় আরও ৩ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে শাকিলসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
দুটি অভিযানে মোট চারজন আটক হয়েছেন। তবে দুই অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারা কোন ঘটনায় জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি বিজিবি।
আটক ব্যক্তিরা হলেন টেকনাফের হোয়াইক্যং কাটাখালি এলাকার বক্কর আহমেদের ছেলে শাকিল (২২), মৃত কাদেরের ছেলে রাসেল (২৩), চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার গোসাইলডাঙ্গা এলাকার মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৩১) এবং উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত সিদ্দিকের ছেলে খায়রুল আমিন (২৪)।
সীমান্তে মাদক পাচার ঠেকাতে নজরদারি
টেকনাফ ও উখিয়া বাংলাদেশের মিয়ানমার-সংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকা। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইয়াবার মতো নিষিদ্ধ মাদক দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সীমান্তে তল্লাশি, টহল এবং সন্দেহজনক যানবাহন পরীক্ষা করা হয়।
এবারের অভিযানে দুটি পৃথক স্থানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় মাদক পরিবহন ও পাচারের বিরুদ্ধে নজরদারির গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। একটি ঘটনায় দূরপাল্লার চলাচলকারী পিকআপে ইয়াবা লুকিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ধরা পড়েছে, অন্য ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বড় চালান উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বিপুল পরিমাণ এই মাদক বাজারে পৌঁছানোর আগেই জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। তবে চালান দুটির উৎস, সম্ভাব্য গন্তব্য এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তদন্তের প্রয়োজন হবে।
বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আটক চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের মাধ্যমে মাদকের উৎস ও পাচারচক্রের অন্য সদস্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


